পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ মৃত ব্যক্তি অর্থাৎ লাশেরও মানবাধিকার রয়েছে৷ লাশের অমর্যাদা এর লঙ্ঘন৷ করোনাকালে গঙ্গায় লাশ ভেসে আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে যা যথেষ্ট লজ্জার৷ এ নিয়ে একটি নীতিমালা গঠনের নির্দেশ দেওয়ার জন্য দেশের শীর্ষ আদালতে আবেদন করা হয়েছিল৷ তার শুনানিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এটা তাদের কাজ নয়৷ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে এ নিয়ে আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে মামলাকারীকে৷
আরও পড়ুন:
বিহার-উত্তর প্রদেশের একাধিক জায়গায় গঙ্গায় লাশ ভাসতে দেখা গিয়েছে। গাজিপুর থেকে বক্সার বিস্তীর্ণ এলাকায় গঙ্গায় দেহ ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে গঙ্গা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে গঙ্গা থেকে যারা দেহগুলি টেনে এনে সৎকারের জন্য নিয়ে যাচ্ছে তাদের পরনে পিপিই কিট নেই।
তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে এই আবেদন করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে৷ মৃতের অধিকার রক্ষার জন্য নীতিমালা গঠনের নির্দেশনা, কোভিডে মৃত লাশের দাফন ও সৎকারে অতিরিক্ত চার্জ এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার জন্য নীতিমালা গঠনের নির্দেশনা দিতে চায়নি আদালত৷ এই আবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) করার পরামর্শ দেয় বিচারপতি নাগেশ্বর রাও এবং বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ৷ তাদের বক্তব্য, আপনি যে সমস্যাটি উত্থাপন করছেন তা একটি গুরুতর সমস্যা, এতে আমরা একমত৷ তবে এ নিয়ে নীতিমালা গঠনের জন্য নির্দেশ প্রদানে কোর্ট অস্বীকার করে জানায়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যান৷ এনএইচআরসি বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে৷আরও পড়ুন:
শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর পক্ষে হাজির হয়ে অ্যাডভোকেট যুক্তি দেখান যে গঙ্গা নদীতে লাশের সন্ধান পাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে মৃতদেহের অধিকার রক্ষার নীতিমালার জন্য দিকনির্দেশনা চাওয়া হচ্ছে। আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে আবেদনকারীর সংগঠনটি হাইকোর্টের সামনে বিষয়টি তুলেছিল৷ তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখনও নেওয়া হয়নি। এর জবাবে বেঞ্চ জানায়, এনএইচআরসিকে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। আপনি এনএইচআরসিতে যান।
আপনি কতগুলি ফোরামের কাছে যাবেন? আপনি ইতিমধ্যে হাইকোর্টে যোগাযোগ করেছেন। হাইকোর্ট একটি নির্দেশ দিয়েছেন। এনএইচআরসি হস্তক্ষেপ করেছে৷ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলাই যুক্তিপূর্ণ হবে৷ বেঞ্চ জোর দিয়ে বলে যে আবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলি গুরুতর এবং এনএইচআরসি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য উপযুক্ত ফোরাম। প্রসঙ্গত, এনজিও ট্রাস্ট ডিস্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট কালেক্টিভ একটি নির্দিষ্ট আইন কার্যকর করার উপর জোর দিয়ে এ নিয়ে এই আবেদন করেছিলেন৷ এই আবেদনে শীর্ষ আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছিল যে সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে শ্মশান এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার জন্য নির্দিষ্ট রেট নির্ধারণের পাশাপাশি এই নিয়ম না মেনে চলার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এই আবেদনে ১৪ মে জারি হওয়া এনএইচআরসি-র উপদেশাবলিরও উল্লেখ করা হয়েছিল৷ সেখানে মৃতদেহের অধিকার রক্ষার জন্য ১১টি সুপারিশ করেছিল কমিশন৷ কিন্তু সেগুলো মেনে চলা হচ্ছে না৷ তাই ফের এই আবেদন করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে৷