পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ‘সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব’, এমনই হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশের এক এনসিপি নেতা। উস্কানিমূলক মন্তব্য ও হুমকি নিয়ে এবার বাংলাদেশ হাই কমিশনারকে তলব করল নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্যকে নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যের পর, বুধবার নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে ভারত। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেই এই তলব বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের উত্তর পূর্বের সাতটি রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরা-কে একসঙ্গে বলা হয় সেভেন সিস্টার্স৷ সোমবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর৷ হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, "আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ভারতবিরোধী শক্তিগুলোকে আশ্রয় দেব, তারপর ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করব।
যারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয়, প্রশ্রয় দিচ্ছে, অর্থ-প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তাদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে।"

এনসিপি নেতার বক্তব্য, "আমি ভারতকে পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সম্ভাবনা, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারকে সম্মান না করা শক্তিকে যদি আপনি আশ্রয় দেন, তাহলে বাংলাদেশ জবাব দেবে।" হুঁশিয়ারি দিয়ে হাসনাত বলেন, "বাংলাদেশ যদি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তাহলে প্রতিরোধের আগুন তার সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়বে।" ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত বলেছিলেন, "স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও বাংলাদেশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের জন্য 'শকুনদের' প্রচেষ্টার মুখোমুখি হতে থাকে।

ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অতীতেও অভিযোগ করেছে যে উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী এক সময় বাংলাদেশকে আশ্রয়স্থল, যাতায়াতের পথ ও লজিস্টিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত—বিশেষত ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে। সেই সময়ে সীমান্তের ওপারে শিবির, নিরাপদ ঘাঁটি ও সহায়তামূলক নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের কথা বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসে।