আরও পড়ুন:
পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: দ্বিতীয় এলিজাবেথ ইংল্যান্ডসহ মোট ১৫টি দেশের রানি ছিলেন। তাই তাকে অনেক রাজকীয় সফরে যেতে হতো। আর হত্যাকাণ্ডের জন্য গুপ্তঘাতকরা তার এই সফরের সময়গুলোকে বেছে নিত। তবে কপালজোরে প্রতিবারই বেঁচে যান রানি। প্রথম হত্যাচেষ্টা চালানো হয় ১৯৭০ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরকালে। রানি ও তার স্বামী প্রিন্স ফিলিপ সেই সফরের পুরোটাই সম্পন্ন করেছিলেন ট্রেনে চড়ে।
তাদের ট্রেন যখন লিথগো শহর পার হচ্ছিল, ঠিক সেখানে রেলপথে একটি বড় গাছের গুঁড়ি পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিল, এটি দুর্ঘটনাবশত নয়, ব্যাপারটি সম্পূর্ণই পরিকল্পিত। তবে ট্রেন ধীরগতিতে চলায় রানি বেঁচে যান।আরও পড়ুন:
রানির ওপর দ্বিতীয় হামলা হয়েছিল লন্ডনে, ১৯৮১ সালে। রানির জন্মদিন উপলক্ষে রীতি অনুযায়ী কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজনের শুরুতে রানি তার ঘোড়া ‘বার্মিজের’ ওপর বসেছিলেন।
দর্শকদের ভিড়ের মাঝে ‘মার্কাস সার্জেন্ট’ নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর পিস্তল নিয়ে রানির অপেক্ষায় ছিল এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়ে। সৌভাগ্যক্রমে তার করা ছয়টি গুলির কোনোটিই রানির গায়ে লাগেনি। পরে ছেলেটিকে গ্রেফতার করে পাঁচ বছরের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়।আরও পড়ুন:
এ ঘটনার কয়েক মাস পরেই ঘটে তৃতীয় চেষ্টা। রানি এলিজাবেথ নিউজিল্যান্ডের ‘ডুনেডিনে’ সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি যখন গাড়ি থেকে নামছিলেন, তখনই শোনা যায় এক গুলির শধ।
‘ক্রিস্টোফার লুইস’ নামে এক যুবক ওই কাজটি করেছিল। সে এক ভবনের ষষ্ঠ তলার বাথরুমে লুকিয়ে গুলি চালিয়েছিল। তবে লুইসের অবস্থান সুবিধাজনক স্থানে না হওয়ায় রানিকে বুলেট লাগেনি। লুইস ছিল একজন মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোর। এ ঘটনার আগেও সে অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণী নির্যাতনের মতো কাজ করেছিল।আরও পড়ুন:
এ ছাড়া ২০২১ সালে রানির ‘উইন্ডসর’ প্রাসাদের বাইরে তির-ধনুকসহ ১৯ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। যার নাম ‘জাসওয়ান্ত’। জানা যায়, ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই রানিকে হত্যা করতে এসেছিল সে। একদিকে মহা ক্ষমতার অধিকারী, অন্যদিকে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থেকে বেশ কয়েকবার হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হয়েও স্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ৭০ বছরের টানা ক্ষমতার ইতি টানেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।