পুবের কলম প্রতিবেদক, কুলতলি: শনিবার রাতে ১২ জন বাংলাদেশি নাবিককে দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। তারা প্রায় পাঁচ মাস ধরে ভারতে ছিলেন। বাংলাদেশের একটি পণ্যবাহী জাহাজ যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে মুড়িগঙ্গা নদীতে আটকে পড়েছিল প্রায় ৫ মাস আগে।

খবর পেয়ে সাগর ব্লক প্রশাসন ও সাগর থানার পুলিশ ওই নাবিক ও জাহাজ কর্মীদের উদ্ধার করেছিল।

সেই সুখবরের মাঝেই এবার উলটো ছবি সামনে এলো। ভরা উৎসবের প্রাক্কালে কুলতলির শানকিজাহান গ্রামের ১৪টি মৎস্যজীবী পরিবারের মধ্যে বইছে আতঙ্ক ও উদ্বেগের স্রোত।

জানা গিয়েছে, সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই মৎস্যজীবীরা। তাদের ট্রলারটি ভেসে ভেসে পৌঁছে যায় বাংলাদেশের জলসীমায়।

সেখানে তাদের আটক করে বাংলাদেশের কোস্ট গার্ড ও সেনা।

জানা গিয়েছে, ১৩ অক্টোবর ‘এফবি শুভযাত্রা’ নামে একটি ট্রলারে করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান তারা। শনিবার, ১৮ অক্টোবর ট্রলারের ইঞ্জিন আচমকা বিকল হয়ে যায়। প্রবল ঢেউয়ে দিক হারিয়ে ট্রলারটি সীমান্ত পেরিয়ে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের আটক করে বাংলাদেশের নিরাপত্তারক্ষীরা। জেলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ওই মৎস্যজীবীদের দেখা যাচ্ছে।

পরিবারগুলির দাবি, তারা নিশ্চিতভাবে জানেন বাংলাদেশের হেফাজতেই রয়েছেন তাদের প্রিয়জনেরা। বড় সমস্যা, আটক হওয়া মৎস্যজীবীরা প্রত্যেকেই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। ফলে নিরাপত্তার পাশাপাশি এখন অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তাও গ্রাস করেছে পরিবারগুলিকে। ট্রলারের মালিক প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, ‘দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ১৪ জনকেই সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।’ পরিবারগুলি আজ সোমবার স্থানীয় বিডিও-র কাছে অভিযোগ জানাবেন বলে জানা গিয়েছে।