উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: দক্ষিণ কোরিয়া পাড়ি জয়নগরের ২৩ বছরের বিদিশা গায়েনের। জয়নগর মজিলপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জিমন্যাস্ট বিদিশা গায়েন। বাবা দক্ষিণা গায়েন কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। মা বন্দনা মণ্ডল গায়েন একসময় জিমন্যাস্টিকে জাতীয় দলে খেলতেন।
আরও পড়ুন:

বিদিশার ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি জিমন্যাস্টিকের প্রতি আগ্রহ ছিল। জয়নগরের সুপ্রাচীন সৃজনী ক্লাবের জিমনাসিয়াম থেকেই বিদিশার জিমন্যাস্টিকে হাতে খড়ি।
২০১১ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে অন্ধ্রপ্রদেশে অনূর্ধ্ব ১০ বছর ন্যাশনাল জিমনাস্টিকে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বিদিশা। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বিদিশাকে। ২০১৪ সালে কলকাতায় অনূর্ধ্ব ১৭ বছর স্কুল ন্যাশনাল জিমন্যাস্টিকে প্রথম স্থান পায়।আরও পড়ুন:
২০১৫ সালে তেলেঙ্গানাতে অনূর্ধ্ব ১৭ বছর স্কুল ন্যাশনাল জিমন্যাস্টিকেও প্রথম স্থান পায়। এরপর ২০১৬ সালে হরিয়ানায় অনূর্ধ্ব ১৭ বছর স্কুল ন্যাশনাল জিমনাস্টিকে প্রথম হয়। ২০১৭ সালে ফের কলকাতায় অনূর্ধ্ব ১৭ বছর স্কুল ন্যাশনাল জিমনাস্টিকে প্রথম হয়।
২০১৭-এ দিল্লিতে অনূর্ধ্ব ১৭ খেলো ইন্ডিয়া স্কুল গেমসের জিমনাস্টিকেও প্রথম হয়। ২০১৮ সালে মহারাষ্ট্রে আয়োজিত অনূর্ধ্ব একুশ বছর খেলো ইন্ডিয়া ইউথ গেমসেও প্রথম হয়। ২০১৯ সালে চণ্ডীগড়ে আয়োজিত অল ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি জিমন্যাস্টিক প্রতিযোগিতায় সিনিয়র গ্রুপে তৃতীয় স্থান অধিকার করে বিদিশা। ২০২১ শে অমৃতসরে আয়োজিত অল ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির প্রতিযোগিতায়ও তৃতীয় হয়। ২০২২ সালে ইজিপ্টের কায়রো শহরে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয় বিদিশা গায়েন।আরও পড়ুন:

জেলা, রাজ্য ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও জিমনাস্টিকে একটার পর একটা সাফল্য আসে তার ঝুলিতে।
বর্তমানে বিদিশা পূর্ব রেলে কর্মরত এবং BNR-এর সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে জিমে পায়েল ভট্টাচার্য ও পার্থ মণ্ডলের কাছে প্রশিক্ষণরত। এবার তার লক্ষ্য ইন্ডিয়ান ওম্যানস জিমন্যাস্টিক টিম ফর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-এর ট্রফি ছিনিয়ে আনা। সে কারণেই ইতিমধ্যে বিদিশা রওনা দিয়েছে সাউথ কোরিয়ার উদ্দেশে।আরও পড়ুন:

জয়নগরের বিদিশা ছাড়াও এই চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত থেকে পাঁচজনের একটি দল পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এদের মধ্যে আছে মেদিনীপুরের প্রণতি নায়েক, হাওড়ার প্রতিষ্ঠা সামন্ত, কলকাতার তোরা সানি এবং দিল্লির স্নেহা তোরিয়াল। জিমন্যাস্টিকে মেয়ের সাফল্যে খুশি বিদিশার পরিবারের সদস্যরা। বিদেশের মাটিতে তাঁর সাফল্য কামনা করছেন তার বাবা, মা-সহ জয়নগরের মানুষ।