পুবের কলম প্রতিবেদক: দেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ কিংবা বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথির মধ্যে অন্যতম হল বৈধ পাসপোর্ট। অথচ ভুয়ো নথি কিংবা ভুল ঠিকানা দিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে পাসপোর্ট তৈরির চক্র গড়ে উঠেছিল রাজ্যে। মোটা টাকার বিনিময়ে ভুয়ো নথি দিয়েই রাজ্যের কয়েকটি স্থানে তৈরি হয়েছে শতাধিক পাসপোর্ট। তাই ভুয়ো নথি কিংবা ভুল ঠিকানা দিয়ে প্রতারকরা যাতে অবৈধভাবে পাসপোর্ট না বানাতে পারেন তার জন্য এবার আরও কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস।

ভুয়ো নথি দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি রুখতে আগামী ছ’মাসের মধ্যেই কলকাতায় বৈদ্যুতিন পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) পরিষেবা চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অধিকর্তা আশিস মিধ্যা।

আগামী দিনে ‘ই-পাসপোর্ট’ সুবিধা চালু হলে যে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরি হবে, তাতে ভুয়ো নথি কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট তৈরির প্রতারণা অনেকটাই আটকানো যাবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে রাজ্যে ৪৩৭টি পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২১টি ঘটনা কলকাতা পুলিশের আওতায়। সম্প্রতি আলিপুর আদালতে ১৪০ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দিয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

কলকাতা পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়ো পাসপোর্ট মামলায় ১৩০ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে।

যদিও ওই ১৩০ জনের মধ্যে ১২০ জন বাংলাদেশি নাগরিক পলাতক রয়েছে বলেও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, সরকারি কর্মচারি, ব্যাঙ্কার, ব্যবসায়ী বা এজেন্ট কর্তৃক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে, পাশাপাশি পাসপোর্ট আইন এবং বিদেশি আইনের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে।

আগামী দিনে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পরেও অবশ্য পুরনো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন ই-পাসপোর্ট আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পুরনো পাসপোর্টটি বৈধ বলে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অধিকর্তা।

সাধারণ মানুষের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্যার oুত সমাধানে প্রতি মাসে কলকাতার ব্রাবোর্ণ রোডে অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট আদালতের মাধ্যমে আটকে থাকা পাসপোর্টের আবেদন খতিয়ে দেখে দ্রুত  পদক্ষেপ করা হয় বলেও জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, পাসপোর্ট জালিয়াতি রুখতে এবার রাজ্যে চালু হতে চলেছে পাসপোর্ট মোবাইল অ্যাপ।

আপাতত ওই অ্যাপ বিধাননগর কমিশনারেট ও হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ এলাকায় নথি যাচাইয়ের জন্য চালু করা হয়েছে। অ্যাপের পরিষেবা সফল হলে আগামী দিনে রাজ্যজুড়েই এই অ্যাপ চালু করা হবে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাসপোর্টের জন্য জমা করা অবেদনকারীর সমস্ত নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে পুলিশের সার্ভারে। এমনকি আবেদন করার পর পাসপোর্টের ‘স্ট্যাটাস’ কোন পর্যায়ে রয়েছে তাও অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারবেন আবেদনকারী। তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো লিঙ্ক-এ গিয়ে আবেদনকারীকে লগ ইন করতে হবে।