পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: ফ্রান্স সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঠিক তার আগেই দুঃসংবাদটি এলো। খোদ ফ্রান্সের স্ট্রসবার্গে চলছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুবৃহৎ পার্লামেন্ট। আর সেখানেই মণিপুরে চলমান সহিংসতার জন্য ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। মণিপুরে গত দু’মাসের বেশি সময় ধরে চলছে কুকি-মেইতেদের জাতি দাঙ্গা। হিংসা থামাতে তেমন কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না কেন্দ্র সরকারকে। মোদি সরকারের বিরুদ্ধেই এ নিয়ে অভিযোগের তীর।
এবার সেটা নিয়ে সরব হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মোদির সফরের মুখে ইউরোপের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে তার সরকারের কাজকর্মের সমালোচনায় মুখর হবে ২৭টি দেশ। জানা গিয়েছে, মণিপুর বিতর্ক নিয়ে বুধবার দ্বিতীয়ার্ধে জরুরি আলোচনা চলবে। ভোটাভুটি হবে বৃহস্পতিবার।আরও পড়ুন:
বাম, ইউরোপীয়ান সমাজতন্ত্রী, রক্ষণশীলসহ বেশকিছু দল ইইউ পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব পেশ করে। তারপরেই নড়েচড়ে বসেছে আন্তর্জাতিক মহল। প্রস্তাবে মণিপুরে চলমান হিংসার নিন্দার পাশাপাশি শাসকদল বিজেপির প্রধান প্রধান নেতাদের জাতীয়তাবাদী ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
আর্মির বিশেষ আইন ‘আফস্পা’ প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তারা। মণিপুরের ঘটনার তদন্তে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত দল গঠনের দাবি তুলেছে এই পার্লামেন্ট। মণিপুরের বেশ কিছু জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরাও বিশ্বকে ঠিকঠাকভাবে জানাতে পারছে না সেখানকার পরিস্থিতি। তাদেরকে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে পার্লামেন্টে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ, ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট, ইউএপিএ-এর অপব্যবহারের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।আরও পড়ুন:
ইউরোপের পার্লামেন্টে এই আলোচনাকে বেশ ভয়ের চোখে দেখছে মোদি সরকার। ইতিমধ্যে একটি লিডিং লবিং ফার্ম ভাড়া করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। নাম আলবার অ্যান্ড গেইগার। ভারতকে যাতে কোনও কূটনৈতিক হেনস্থার শিকার না হতে হয় তার জন্য সুপারিশ করবে তারা। বিতর্কের পর পার্লামেন্টে যাতে এটি পাশ না হতে পারে তার জন্যও সচেষ্ট হবে এই লবি। বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এই লবির যোগ রয়েছে। তারা পার্লামেন্টে ভারতের হয়ে সাফাই দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মণিপুরের সমস্যা সমাধানে দু-পক্ষের মধ্যে আলোচনার জন্য শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে-এই বিষয়টিও তুলে ধরা হবে পার্লামেন্টে।