মোল্লা জসিমউদ্দিন: শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাস জানিয়ে দিল - ‘আর বিকাশ ভবনের সামনে নয় এবার সেন্ট্রাল পার্কের সুইমিং পুল লাগোয়া অঞ্চলে আন্দোলন ও অবস্থান বিক্ষোভ করতে হবে এসএসসি চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের’। শর্তসাপেক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এ দিন সিঙ্গেল বেঞ্চ জানিয়েছে, -‘আন্দোলনে পর্যায়ভিত্তিকভাবে সর্বোচ্চ ২০০ জন ব্যক্তি থাকতে পারবেন’।
আরও পড়ুন:
এর পাশাপাশি পুলিশকেও ‘ধীরে চলো’ নীতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আদালত। আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। পর্ষদও শোকজ নোটিশ পাঠাতে পারবে না। পুরো বিষয়টি মানবিকভাবে দেখতে হবে। তবে তদন্ত চলবে। নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। আন্দোলনকারীদের সেন্ট্রাল পার্কে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিচারপতি।
তাতে প্রথমে রাজি হতে চাননি চাকরিহারা শিক্ষকরা। তাঁরা বিকাশ ভবনের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান আদালতে। কিন্তু বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদন খারিজ করে দেন। তবে আন্দোলনকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় বায়ো-টয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দেন বিচারপতি। প্রয়োজনই অস্থায়ী তাঁবু টাঙিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।আরও পড়ুন:
বিচারপতি ঘোষ বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে ২০০ জন করে আন্দোলন-স্থলে থাকতে পারবেন’। পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজনের নাম জমা করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। গত ১৫ মে বিকাশ ভবনের সামনে ‘আন্দোলনের নামে তাণ্ডব’ চালানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে তলব করে বিধাননগর পুলিশ। পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁদের শোকজও করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদও। এ দিন শুনানিতে বিষয়টি উঠতেই বিচারপতি জানান, -‘আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।
পর্ষদও শোকজ নোটিশ পাঠাতে পারবে না। পুরো বিষয়টি মানবিকভাবে দেখতে হবে’।আরও পড়ুন:
পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তা, বহিরাগতদের দিয়ে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষকদের মারধর, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আন্দোলনকারী দুই শিক্ষক নেতা ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল ও সুদীপ কোনার। শুক্রবার মামলার শুনানিতে চাকরিহারাদের উদ্দেশে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘আপনারা ওখানে ১৫-১৬ দিন ধরে আন্দোলন করছেন। আপনাদের প্রতি আমি সমব্যথী। কিন্তু আমাকেও তো সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করতে হবে। আপনারা উলটোদিকে সেন্ট্রাল পার্কে অবস্থান করুন। আপনাদের প্রতি সবাই সমব্যথী। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয় সেটা খেয়াল রাখুন। এমন ব্যবহার করুন যাতে শিক্ষকদের সম্মান থাকে।
’আরও পড়ুন:
এ দিনকার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী সওয়াল করে বলেন, ‘এই ২০০ জনের মধ্যে যেন কোনও বহিরাগত না থাকে, সেই দায়িত্ব আন্দোলনকারীদের নিতে হবে’। চাকরিহারাদের আইনজীবী পালটা প্রশ্ন তোলেন, -‘কোনও অধ্যাপক, চিকিৎসক আন্দোলন মঞ্চে এলে তাঁদের কি বহিরাগত বলা হবে? ’ রাজ্যের তরফে আদালতে আবেদন করা হয়, -‘মামলাকারীরা যেন বিধাননগরে ঢুকতে না পারেন। এবং যেন কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি অবস্থান মঞ্চে ঢুকতে না পারেন’।
আরও পড়ুন:
তার জবাবে পালটা চাকরিহারাদের আইনজীবী বলেন, -‘ওখানে কোনও বহিরাগত নেই। কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে তাঁরা ডাকেননি। কেউ নিজে থেকে আসলে তাঁদের কিছু করার নেই’। বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারী এবং এফআইআর -এ নাম থাকা কোনও চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্ত চলবে। পুলিশকে ধীরে চলো নীতি নিয়ে চলতে হবে। নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।