পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ  ইতিহাস হল নয়ডার ‘ট্যুইন টাওয়ার’। মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই মাটিতে মিশে গেল  বিতর্কিত ‘ট্যুইন টাওয়ার’। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল জোড়া বহুতল।রবিবার দুপুর ২.৩১ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ধুলোয় মিশল টাওয়ার। ঐতিহাসিক কুতুব  মিনারের চেয়েও উঁচু এই জোড়া  ইমারত এখন ইতিহাস।

এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছিল  ‘অপারেশন ডিনামাইট’। বিস্ফোরণের জেরে মুহূর্তের মধ্যেই ধুলোর ঝড়ে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে পার্শ্ববর্তী এলাকা।সন্ধের মধ্যে নিজের বাসস্থানে ফিরতে পারবে আশেপাশের বাসিন্দারা। এখনও পর্যন্তও কোনও ক্ষয় ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলেই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর।

[video width="640" height="352" mp4="https://www.puberkalom.com/wp-content/uploads/2022/08/WhatsApp-Video-2022-08-28-at-2.43.36-PM-3-1.mp4"][/video]

আকাশচুম্বী দু’ই টাওয়ার এর নাম ছিল অ্যাপেক্স ও সিয়েন।

অ্যাপেক্স টাওয়ারের উচ্চতা ছিল কমপক্ষে ১০২ মিটার অন্যদিকে সিয়েনের উচ্চতা ৯২ মিটার। সিয়েন ও অ্যাপেক্স টাওয়ার মিলিয়ে মোট ১০০০ টি ফ্লাট ছিল

কিন্তু  ‘ট্যুইন টাওয়ার’ ধূলিসাৎ করার কারণ কি ? 

এই দুই টাওয়ার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক বহু পুরানো।আর সেই কারণেই এই পরিণতি।উল্লেখ্য,উচ্চতার নিরিখে কুতুব মিনারকে ছাড়িয়ে যাওয়া এই দুই টাওয়ারের মধ্যকার দূরুত্ব ছিল মাত্র ৯ মিটার।

যেখানে  একটি টাওয়ার থেকে অন্য আর একটি টাওয়ারের দুরুত্ব হওয়া উচিৎ প্রায় ১৬ মিটার। কিন্তু নয়ডার এই টুইন টাওয়ারের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই এই পরিণতি হয়েছে। মাত্র ১২ সেকেন্ডের মধ্যেই ৩৭০০ কেজির বিস্ফোরক দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হল এই জোড়া ইমারত।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের উত্তরপ্রদেশ অ্যাপার্টমেন্টস আইন না-মেনেই ট্যুইন টাওয়ারটি বানানো হয়েছিল। দুই টাওয়ারের মধ্যে যে ন্যূনতম দূরত্ব থাকা উচিত, তা  রাখা হয়নি। এই সব দিক খতিয়ে দেখে গত বছরেই ওই জোড়া টাওয়ার ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়ে শীর্ষ আদালত জানায় যে, উত্তরপ্রদেশ অ্যাপার্টমেন্টস আইনের আওতায় প্রতিটা ফ্ল্যাটের মালিকের সম্মতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ-ক্ষেত্রে সেই সম্মতি না-নিয়ে বেআইনি ভাবে তৈরি করা হয়েছে ট্যুইন টাওয়ার।