পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ এনসিইআরটি'র ইতিহাস বইয়ে মুঘল সম্রাট শাহজাহান এবং আওরঙ্গজেব সম্পর্কে একটি পরিচ্ছেদ সংযোজিত রয়েছে। সেই পরিচ্ছেদ বই থেকে বাদ দেওয়ার জন্য একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল দিল্লি হাইকোর্টে। সেই পরিচ্ছেদে লেখা হয়েছে যুদ্ধের সময় হিন্দু মন্দিরগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলি পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারি তহবিল থেকে টাকা জোগাতেন সম্রাট শাহজাহান এবং আওরঙ্গজেব। পত্রপাঠ এই মামলা খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। জনস্বার্থ মামলাটি করেছিলেন জনৈক সঞ্জীব ভিকাল।
আরও পড়ুন:
তিনি আদালতে দায়ের করা তার আর্জিতে বলেছেন– সম্রাট শাহজাহান এবং আওরঙ্গজেব ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলির পুনর্নির্মাণে যে আর্থিক সাহায্য করতেন– এর কোনও প্রমাণ নেই। এমনকী আরটিআই আবেদন করেও এই বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। উক্ত বই দ্বাদশ শ্রেণির কোটি কোটি ছাত্র পড়বে এবং ভুল শিক্ষা পাবে। তাই এই পরিচ্ছেদ বই থেকে বাদ দেওয়া হোক। দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি এন প্যাটেল এবং বিচারপতি জ্যোতি সিং আর্জি খারিজ করতে গিয়ে বলেন– 'আজকের সরকারের নীতি আমরা যেখানে বুঝে উঠতে পারছি না– সেখানে আপনি (মামলকারী) চাইছেন আদালত শাহজাহান এবং আওরঙ্গজেবের নীতি স্থির করে দেবেন আর্জিতে আবেদনকারী জানিয়েছিলেন– বইয়ে সম্রাট আওরঙ্গজেবের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে– অথচ আমরা জানি তিনি একজন ‘হিংস্টË’ রাজা ছিলেন।
আরও পড়ুন:
এতে আদালত ক্ষুব্ধ হয়ে মন্তব্য করে এই মামলা তারা খারিজ করে আবেদনকারীর ওপর জরিমানা ধার্য করবে– যদি না আবেদন অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়। আদালত মন্তব্য করে এই ধরনের নিরর্থক মামলা করে আপনারা আদালতের সময় নষ্ট করছেন। তাই এই ধরনের মামলা করা থেকে আপনারা বিরত থাকুন– নচেৎ আদালত কড়া ব্যবস্থা নেবে। আপনাদের জনস্বার্থ মামলা করার যদি এতই শখ হয়– তাহলে আপনারা কর ফাঁকি দেওয়া নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করুন। তাহলে আদালত নোটিশ পাঠিয়ে কর উসুল করার পথ বের করবে।
আরও পড়ুন:
আদালত অবশ্য পরে আবেদনকারীকে মামলা প্রত্যাহার করার অনুমতি দেয়। এরপর আবেদনকারীকে আদালত সতর্ক করে দিয়ে বলে– এই মামলায় আমরা আপনার উপর কোনও জরিমানা ধার্য করছি না কারণ আমরা জানতে পারলাম আপনারা নাকি ছাত্র। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলা করে আদালতের সময় নষ্ট করবেন না। উক্ত এনসিইআরটি'র ইতিহাস বইয়ে লেখা হয়েছে মুঘল সম্রাটের মন্দির– মসজিদ প্রভৃতি ধর্মস্থলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টাকা অনুদান দিতেন। বিশেষ করে সম্রাট শাহজাহান এবং টাকা অনুদান দিতেন। বিশেষ করে সম্রাট শাহজাহান এবং আওরঙ্গজেবের আমলে যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলির পুনর্নির্মাণের জন্য বাদশাহী তহবিল থেকে টাকা অনুদানে দেওয়া হত।