পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী পদে পরিবর্তন নিয়ে তীব্র জল্পনা অব্যাহত। সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমারের মধ্যেকার সংঘাত এখন অনেক স্পষ্ট। দলের অন্দরেই খবর, কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের অন্দরে ভাঙনের কালো ছায়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে! কদিন আগেই দশজন কংগ্রেস বিধায়কের একটি দল দিল্লি গিয়ে কর্নাটকের মসনদে শিবকুমারকে বসানোর বিষয়ে তদ্বির করেন তারা। ক্রমশ জটিল হচ্ছে কর্নাটকের রাজনীতি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইতিমধ্যে বিষয়টি দিল্লিতে পৌঁছেছে।

সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমারকে এবার দিল্লিতে তলব করলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। একই সঙ্গে কর্নাটকের আরও জয়েকজন প্রথম সারির নেতাকে তলব করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। মনে করা হচ্ছে, রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধি। ওই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

দলীয় সূত্রে খবর, কংগ্রেসের হাইকম্যান্ড কর্নাটক নিয়ে এবার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন!
তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেসের হাই কম্যান্ড। ২৬ বা ২৭ নভেম্বরের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার- দুইজনকেই দিল্লিতে ডাকা হতে পারে ২৮ বা ২৯ নভেম্বর। অভ্যন্তরীণ বিভেদ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই আবহে দুই নেতাকে দিল্লি তলব নিয়ে মনে করা হচ্ছে, কর্নাটকের দ্বন্দ্বে মিটবে।
আগামী ১ ডিসেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে রদবদলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দুই নেতা জনসমক্ষে যেভাবে মন্তব্য করেছেন এবং ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে মুখ খুলেছেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস শিবির। বুধবার উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার বলেছেন, আমি চিরকাল রাজ্য কংগ্রেস প্রধানের পদ ধরে রাখতে পারি না। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এই পদে আছেন। এ বার অন্যদেরও সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে তাঁর এই মন্তব্য নিজের পদকে নিয়ে নয়, তাঁর ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের দিকে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।