সেখ কুতুবউদ্দিন

বাড়ছে আর্সেনিকের প্রকোপ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষ থেকে শুরু করে গবাদি পশুপাখি প্রভৃতি এখন বিপন্ন। সরকারি উদ্যোগ শুরু হলেও রয়েছে মানুষের সচেতনতার অভাব। কীভাবে মানুষ ও গবাদি পশুর উপর আর্সেনিক প্রভাব ফেলছেসেই নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্রছাত্রীরা অনবরত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তড়িৎ রায় চৌধুরি বলেনভূগর্ভ থেকে জল মাটির উপরে এনে চাষ করা হচ্ছে। উৎপাদিত সেই ফসল গবাদি পশু বা হাঁসমুরগি খাচ্ছে।

এক্ষেত্রে তাদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলায় বেশি জল উত্তোলন হয়। সেখানকার ধান ও চাষের ফসলের মধ্যে বেশি আর্সেনিক লক্ষ্য করা যায়। সব থেকে পুরুলিয়াবাঁকুড়া জেলায় আর্সেনিক-এর প্রভাবে বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঘটছে। পুরুলিয়ার ১৪টি ব্লক এবং বাঁকুড়ার সাতটি ব্লকে গবেষণা করে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। গবাদি পশুহাঁস-মুরগিদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে।
মানুষের ভক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

আর্সেনিক প্রাণী জগতের শরীরে এক ধরনের বিষ। এর কোন রংগন্ধস্বাদ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর মতেপ্রতি লিটার জলে ০.০৫ মিলিগ্রামের বেশি আর্সেনিক থাকলে তা মানুষের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর।

মানব শরীরের পাশাপাশি গরুছাগলমুরগির শরীরেও ঘটছে সংক্রমণ। ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিকের পরিমাণ যদি বেশি থাকে–  তাহলে তা খেলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দূষিত জলের মাধ্যমে গবাদি পশুর দেহ বা দুধেও আর্সেনিক প্রবেশ করে। খাদ্যের মধ্যে আর্সেনিক ঢুকে পড়লে আর্সেনিক-কবলিত এলাকার বাইরেও মানুষ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ৬ মাস বা তার বেশি সময় পরে শরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যেতে পারে। যেমন একটি পরিবারের ১০ জন সদস্য রয়েছেন–  কিন্তু সবাই যে আক্রান্ত হবেন তা নয়দেখা গেল এক বা দু'জন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হলেনএ ছাড়া কারোর পুষ্টির অভাব থাকলে সে ক্ষেত্রেও আর্সেনিক থাকা জলের মাধ্যমে দ্রুত আক্রান্ত হতে পারেন।

এই প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও অধ্যাপক ড. তড়িৎ রায়চৌধুরি বলেনআর্সেনিকের কবলে রাজ্যের বহু এলাকা। ভূগর্ভ থেকে জল তুলে চাষ আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। শস্য বা উৎপাদিত খাদ্য থেকে তা গরুছাগলমুরগির শরীরে প্রবেশ করছে। এর মাধ্যমে মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে আর্সেনিক। তাই আর্সেনিক রুখতে ভূগর্ভের জল ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।