কুতুব উদ্দিন মোল্লা,ক্যানিং: প্রবল বর্ষনের জেরে রেললাইনের উপর হাঁটু সমান জল। ফলে মঙ্গলবার ভোর থেকে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ক্যানিং, কাকদ্বীপ, নামখানা, ডায়মন্ডহারবার ও বজবজ লাইনের ট্রেন চলাচল থমকে পড়ে। এমন ঘটনায় পূজোর মুখে ফের নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায়।
আরও পড়ুন:
সকালে অফিস টাইমে এই বিপত্তিতে রীতিমতো চরম সমস্যায় পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। কেউ অফিসের পথে, কেউ বা স্কুল-কলেজগামী অথবা কলকাতায় দিন মজুরের শ্রমিকের কাজ করার জন্য বেরিয়ে থমকে পড়েছে।সকলেই একসুরে ক্ষোভ উগরে দেন পূর্ব রেলের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
এবিষয়ে পূর্ব রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘প্রবল বৃষ্টির ফলে রেললাইনের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যায়।বিশেষ করে শিয়ালদহ,বালিগঞ্জ ও যাদবপুরে।এর জেরেই ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। কর্মীরা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।” অন্যদিকে নিত্যযাত্রীদের ক্ষোভ আরও তীব্র।
তাঁদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই যখন বারবার ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, তাহলে আসন্ন দুর্গাপুজোর সময় কী হবে?আরও পড়ুন:
প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী এই রেললাইনের উপর নির্ভর করেন। অথচ জল নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায়, অল্প বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভাঙন ধরছে। ক্ষুব্ধ এক নিত্যযাত্রীর কথায়, “প্রতিদিন আমরা এই ট্রেনেই যাতায়াত করি। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে পুজোর সময় মানুষ বাড়ি ফিরবে কীভাবে? অফিস, ব্যবসা, জরুরি কাজ সব কিছুই থমকে যাচ্ছে।
সবার তো সময়ের দাম আছে নাকি? ”আরও পড়ুন:
নিত্যযাত্রীদের দাবি, দ্রুত রেললাইন সংলগ্ন খালগুলির সংস্কার করা হোক এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো হোক। পুজোর আগে অন্তত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। আর রেল সূত্রে খবর, সমস্যা সমাধানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে নিত্যযাত্রীদের প্রশ্ন, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলে কেন স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না?
আরও পড়ুন:
ফলে, একদিকে যখন পুজোর কেনাকাটা ও উৎসবের আনন্দে মানুষ মেতে উঠেছেন, অন্যদিকে প্রতিদিনের যাতায়াত নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। নিত্যযাত্রীদের আশঙ্কা, দুর্গাপুজোর ভিড়ের সময় যদি আবারও এই ধরনের বিপত্তি ঘটে, তবে ভোগান্তির সীমা কয়েকগুণ ছাড়িয়ে যাবে।