বিশেষ প্রতিবেদকঃ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইউজিসির নির্দেশিকা অনুসারে ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (ন্যাক)(National Assessment and Accreditation Council (NAAC)) টিমকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগতমানের মূল্যায়ন করিয়ে নেওয়া একটি আবশ্যিক বিষয়। ২০২২ সালের মধ্যে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যাক করাতেই হবে। এমন প্রেক্ষিতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সচেষ্ট হয়েছে যেকোনও মূল্যে ২০২১ সালের মধ্যে ন্যাক ভিজিটের জন্য আবেদন করতে– যাতে ২০২২-এর প্রথম দিকে বিষয়টা সম্পন্ন করা যায়।
আরও পড়ুন:

এমনিতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের(Aliah University) ন্যাকের আবেদন করতে কোনও সমস্যা নেই– নেই কোনও বাধাও। কিন্তু আলিয়ার এই লক্ষ্য পূরণের পথে মূর্তিমান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে আলিয়ার অর্থ বরাদ্দের দায়িত্বপ্রাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়ক দফতর (এমএএমই)। এ কথাই বলছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্বজ্জনেরা।
আরও পড়ুন:
আলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় মূল্যায়ন– প্রত্যয়ন ও স্বীকৃতির জন্য এই ন্যাক ভিজিট জরুরি। ন্যাক সদস্যরা প্রতিষ্ঠান ভিজিট করে সবকিছু সরজমিনে খতিয়ে দেখে 'ন্যাক স্বীকৃতিপত্র' দিয়ে থাকেন। দেশের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই ন্যাক স্বীকৃতি অবশ্যই প্রয়োজন। আর তা না হলে কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও স্বীকৃতি থাকে না এবং তা একপ্রকার মূল্যহীন হয়ে পড়ে ও সাধারণের পর্যায়ে চলে যায়। ন্যাকহীন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজিসি থেকে বরাদ্দ পাওয়া দুষ্কর।
আরও পড়ুন:
এই ন্যাক স্বীকৃতি আদায়ের করার জন্য আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিকাঠামো– প্রয়োজনীয় বিভাগ– ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত সবই রয়েছে।
কিন্তু ন্যাক আবেদনের জন্য প্রয়োজন ৪০ লক্ষ টাকা। আর আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এই অর্থ বরাদ্দ করার সর্বময় মালিক হচ্ছে এমএএমই দফতর।আরও পড়ুন:
এমএএমই দফতরকে ন্যাক স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ চেয়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়েছিল এ বছর ১৯ জুলাই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমএএমই দফতর চিঠির প্রত্যুত্তর দিতে সময় নিয়েছে দীর্ঘ দুই মাস তিনদিন। ২৩ সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত চিঠিতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে– আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি তারা ন্যাক করানোর মতো যোগ্যতা আছে কি না। প্রকৃতই কি আলিয়ার ন্যাক করানোর মতো যোগ্যতা আছে?
আরও পড়ুন:
বোঝা যাচ্ছে– আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কলা– বিজ্ঞান– ইঞ্জিনিয়ারিং– ম্যানেজমেন্ট– আইটি প্রভৃতি বিভাগে খুব ভালো ফলাফল এবং অন্যান্য পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এমএএমই-র কর্মকর্তারা নিজেদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না। তাঁরা চিঠি দিয়ে জানতে চাইছেন– আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আদৌ ন্যাক পাওয়ার যোগ্যতা কি রয়েছে? সেটা আগে জানানো হোক। তারপর ন্যাকের জন্য টাকা-পয়সা বরাদ্দের কথা বিবেচনা করা হবে। এমএএমই-র যে সমস্ত কর্মকর্তারা প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিলম্ব প্রক্রিয়া চালু করেছেন– তাঁরা প্রয়োজনে গুগল ব্যবহার করেও জানতে পারতেন ন্যাকের স্বীকৃতির জন্য কী কী প্রয়োজন। কাছেই রয়েছে কলকাতার মৌলানা আজাদ কলেজ।
এমএএমই-র অনুসন্ধিৎসু কর্মকর্তারা একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে বা চিঠি লিখে মৌলানা আজাদ কলেজের প্রিন্সিপালের কাছ থেকে ন্যাক সম্বন্ধে ধারণা নিতে পারতেন। কারণ– মৌলানা আজাদ কলেজ ন্যাক-এর কাছ থেকে 'গ্রেড-এ' স্বীকৃতি বহু বছর আগেই এত সংশয় বা ঝামেলা ছাড়াই হস্তগত করেছে।আরও পড়ুন:
অবশ্য আরও একটি পদ্ধতি ছিল। এমএএমই-র প্রাজ্ঞ আধিকারিকরা তাঁদের সঙ্গে দু-একজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভিজিট করে তথ্য সংগ্রহ করে ন্যাক-এর ওয়েবসাইটে প্রদত্ত নির্ণায়ক চাহিদার সঙ্গে তা তুলনা করে নিতে পারতেন। তাহলে হয়তো এমএএমই-র কর্মোদ্যোগ প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হত না।
আরও পড়ুন:
অনেকে বলছেন– একটি সরকারের দফতর কোনও বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশ্ন করছে– আপনারা ন্যাক করাতে চাইছেন– তা ন্যাক করানোর মতো যোগ্যতা আপনাদের কতটা রয়েছে? তা লিখিতভাবে জানান। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন প্রশ্ন করার কথা উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিক বা শিক্ষক কেউই কল্পনাও করতে পারেন না। বিষয়টি যে খুবই অপমানজনক তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ে আলিয়া উন্নীত হয় ২০০৮ সালে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যাক ভিজিট করানো যায়নি। কারণ– বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিল্ডিং– ঘর-বাড়ি না থাকার জন্য।
তখন বিশ্ববিদ্যালয় চলত ভাড়া বাড়িতে। পরে ২০১৬ সালে যখন নিজস্ব ক্যাম্পাস– ভবন– হস্টেল ইত্যাদি হল– তখন প্রথমেই ১২-বি করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১২-বি-র মূল্যায়নে সম্মানজনক ফলাফল করার পর বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রস্তুত হয়েছিল 'ন্যাক ভিজিট' করানোর জন্য– তখনই শুরু হল করোনা মহামারি। পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তারই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক– আধিকারিক ও শিক্ষাকর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন।আরও পড়ুন:
বর্তমান উপাচার্যের কার্যকাল আর মাত্র ছয় মাস। এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে ন্যাক করাতেই হবে। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর পক্ষে কম করে এক বছরের আগে ন্যাক করানো সম্ভব নয়। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়কে ন্যাকের জন্য অনতিবিলম্বে আবেদন করা প্রয়োজন। কিছুতেই বিলম্ব করা যাবে না। এ দিকে প্রাথমিকভাবে আবেদন করার জন্য যে সাত লক্ষ টাকা দরকার তাও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে নেই। এমন জরুরি অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় যখন দফতরের কাছে আবেদন করে– তখন সেই আবেদনের প্রত্যুত্তর আসে দুই মাস পরে এবং অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে।
আরও পড়ুন:
অনেকে বলছেন– এটা কিছুতেই বোঝা যাচ্ছে না যে– এক্ষেত্রে এমএএমই আধিকারিকরা ঠিক কী করতে চাইছেন! বিশ্ববিদ্যালয়কে ন্যাক উত্তীর্ণ করিয়ে নেওয়া যাঁদের দায়িত্ব– তাঁরাই বিলম্ব করছেন ন্যাক হওয়ার পথে।