পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ‘সরকারকে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হচ্ছে। মাথা ঠুকতে হচ্ছে।’ ২০২১ এর জানুয়ারিতে মেদিনীপুরের দলীয় সভায় মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত দুয়ারে সরকার প্রকল্পকে ঠিক এরকম ভাষাতেই দুষেছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। অথচ দু’বছর পর ২০২৩ এর জানুয়ারিতে সেই একই প্রকল্পের ব্যপক সাফল্য পরখ করে দুয়ারে সরকারকে পুরস্কৃত করবে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার।
আরও পড়ুন:
দুয়ারে সরকারের সাফল্য দেখে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও নিজের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বলেছেন, ‘কোনোও প্রকল্পে যদি মানুষ উপকৃত হন, তাতে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
’ উল্লেখ্য, এই সাফল্য দেখে এখন অরুণাচলের বিজেপি সরকারও বাংলার ধাঁচে নয়া প্রকল্প শুরু করেছে। আসলে দুয়ারে সরকার প্রকল্পের সুফল পেয়েছেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মী থেকে আম জনতা। বাংলার ৫৭ দিনের ক্যাম্পে উপকৃত প্রায় ৯৫ লক্ষ মানুষ। ১ নভেম্বর থেকে রাজ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে দুয়ারে সরকার প্রকল্পের পঞ্চমতম সংস্করণ। চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরই মধ্যে পরিসংখ্যান বলছে, ১ নভেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুয়ারে সরকারের শিবিরে ৯৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ১০১ জন অর্থাৎ প্রায় ৯৫ লক্ষ মানু¡ গেছেন। দুয়ারে সরকারের পঞ্চমতম সংস্করণে গোটা রাজ্য জুড়ে ৮২ হাজার ৩৯ টি ক্যাম্পের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ২০২০ এর ডিসেম্বরে প্রথমবার দুয়ারে সরকার প্রকল্প পথ চলা শুরু করে। এই দুই বছরে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৫২ টি শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। যাতে উপকৃত হয়েছেন রাজ্যের ৯ কোটি ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ।
গোটা বাংলার মানুষকে হাতের নাগালে সবরকম সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি অফিসে গিয়ে আবেদন করা যাদের জন্য কষ্টসাধ্য, সেরকম প্রান্তিক এলাকার মানুষজন ভীষণভাবে উপকৃত হয়েছেন এই প্রকল্পের কারণে। শুরুতে দীর্ঘ লাইনের কারণে সমস্যায় পড়লেও পরে সেই সমস্যা থেকেও মুক্তি পেয়েছেন রাজ্যবাসী।আরও পড়ুন:
একসময় বাড়ির কাছে জল জমলেও বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা ছবি তুলে ‘দুয়ারে দীঘা’, ‘দুয়ারে পুরী’ লিখে মিম শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু এই সব ব্যঙ্গ-কটাক্ষকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আগামী ৭ জানুয়ারি নয়া দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে রাষ্ট্রপতির হাতে পুরস্কৃত হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প দুয়ারে সরকার। এর আগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুরস্কৃত হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিস্কপ্রসূত কন্যাশ্রী প্রকল্প।
আরও পড়ুন: