পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে রবিবার আন্তর্জাতিক নারীদিবসে এক অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি নিল রাজ্যের শাসকদল। এদিন রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের নারীবাহিনী মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কালো পোশাক পরে, হাতা খুন্তি হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে। রাজপথ থেকে ধরনা মঞ্চ, শহর থেকে জেলা একই কায়দায় বিক্ষোভ দেখানো হয়।

রবিবার সকালে প্রথমে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে বিক্ষোভ দেখান রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা। ছিলেন সাংসদ মালা রায়, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্তি পাণ্ডে, কৃষ্ণা চক্রবর্তী প্রমুখ তৃণমূলের হেভিওয়েট নেত্রীরা। ছিলেন কাউন্সিলররাও। মিছিল শেষ হয় মুখ্যমন্ত্রী ধর্নামঞ্চে।

সেখানেও হাতা খুন্তি বাজিয়ে গ্যাসের দামবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তাঁরা।

রবিবার আন্তর্জাতিক নারীদিবসে একটা নতুন চিত্র দেখল শহর কলকাতা। গানে কবিতায় নয়, হেঁসেলের উপকরণ হাড়ি, কড়াই, হাতা, খুন্তিকেই প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে হাতে তুলে নিয়েছিলেন তৃণমূলের মহিলা বাহিনী। 
এদিন মিছিলে হাঁটা মহিলাদের হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের পোস্টার, ব্যানার। পোস্টারে কোনটায় লেখা ছিল ‘গ্যাসের দাম বাড়লো কেন, বিজেপি সরকার জবাব দাও’। কোনটায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে পোস্টার। কাট আউটে গ্যাস সিলিন্ডার, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।

মুখে ছিল জয় বাংলা স্লোগান।   

শনিবারই এক রাতের মধ্যে বিনা নোটিশে রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে রান্নার গ্যাসের দাম হয়েছে ৯৩৯ টাকা। তার আগে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১১৪.৫০ বেড়ে প্রায় দু’ হাজার টাকার কাছাকাছি। এইভাবে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার গৃহস্থের হেঁসেলে আগুন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই গ্যাসের দামকেই প্রতিবাদের ইস্যু হিসেবে বেছে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শশী পাঁজা এদিন খালি থালা দেখিয়ে বলেন, এই থালাটা খালি কেন?

এই বাসনে রান্না করা খাদ্য নেই। কারণ গ্যাসের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য রান্না করা যায়নি। আর কত লড়াই করবেন মহিলারা? 

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ ঘুরপথে এসে পৌঁছেছে বাংলার হেঁসেলে। আচমকাই বেড়ে গিয়েছে গ্যাসের দাম। যা ঘিরে নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্ত বাঙালির। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এই ইস্যুকেই রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হল।