পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। এবার এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা নিতে চলেছে টাটা গোষ্ঠী। শুক্রবার কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, টাটা গোষ্ঠী ছাড়াও এয়ার ইন্ডিয়া কেনার জন্য দরপত্র জমা করেছিলেন স্পাইস জেটের প্রতিষ্ঠাতা অজয় সিং।
আরও পড়ুন:
টাটা সনস-এর সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে অজয় সিং দরপত্র জমা করেছেন। এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রির জন্য যে কোয়ালিফায়েড বিডারদের শর্ত রাখা হয়েছে তা মেনেই বুধবার অজয় সিং দরপত্র জমা করেন। সরকার চাইছে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়াকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।
এর জন্য সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র এবং নতুন মালিকের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সেরে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে সরকার। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই নিয়ে সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করেছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বলেই সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় অসামরিক পরিবহণ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছিলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হবে। সেইমতো দরপত্র জমা নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বহুদিন ধরেই এয়ারলাইন্সটি বিক্রির চেষ্টা করেছে সরকার। এই কারণে সংস্থাটিকে বেসরকারি খাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা।
এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে আগ্রহীদের কাছে দরপত্র আহ্বান করেছিল সংস্থাটি। এয়ার ইন্ডিয়া দরপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন নিজেদের দর জমা করেছিল টাটা গোষ্ঠী।আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, টাটার পক্ষ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দর জমা দেওয়া হয়। যা স্পাইসজেটের অজয় সিংয়ের দেওয়া দরের থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে কেন্দ্র এই বিষয়ে কিছু জানায়নি।
আরও পড়ুন:
তবে টাটা এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা নিলে ঋণের চাপে ধুঁকতে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ায় প্রায় ৮৪ শতাংশ শেয়ার চলে যাবে যাবে রতন টাটার সংস্থার হাতে। এ মুহূর্তে বাজারে এয়ার ইন্ডিয়ার ঋণের পরিমাণ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
আরও পড়ুন:
ভারত সরকারের বিনিয়োগ এবং পাবলিক অ্যাসেট বিভাগ তথা ডিআইপিএএম-এর সচিব তুহিন কান্ত পাণ্ডে এক ট্যুইট বার্তায় জানিয়েছেন, ট্রানস্যাকশন অ্যাডভাইসারের কাছে এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রির যাবতীয় দরপত্র জমা পড়ে গিয়েছে। এখন পুরো প্রক্রিয়াটি সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন:
২০০৭ সাল থেকেই দেশীয় ইন্ডিয়া এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে ঋণের চাপে ধুঁকছে এয়ার ইন্ডিয়া। তবে করোনা অতিমারির কারণে এই বিক্রি প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই প্রায় পাঁচবার দরপত্র জমা দেওয়ার সীমা বাড়ায় কেন্দ্র সরকার।
আরও পড়ুন:
১৯৩২ সালে টাটার হাত ধরে শুরু হয় টাটা এয়ারলাইন্সের পথচলা। পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে নাম বদলে হয় এয়ার ইন্ডিয়া। এর পর ১৯৫৩ সালে টাটার হাত থেকে এই উড়ান সংস্থাকে অধিগ্রহণ করে কেন্দ্র। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন জেআরডি টাটা। এবার ফের এই সংস্থা টাটাদের হাতে যেতে পারে।