০১ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনুতাপ? উল্টে বুল্লিবাই স্রষ্টার হুঙ্কার, ‘যা করেছি, ঠিক করেছি’

নয়াদিল্লিঃ ‘কোনও অনুশোচনা নেই, যা করেছি ঠিক করেছি’, পুলিশের জেরার মুখে বললেন অসমের জোরহাট থেকে ধৃত কদর্য ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপের নির্মাতা বলে দাবিদার নীরজ বিষ্ণোই।শুক্রবার তাকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত নীরজকে ৭ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।পুলিশ হেফাজতে জেরার সময়ই নীরজ ভাবলেশহীন ভাবে এইসব কথা বলে। সে যে এত বড় অপরাধ করেছে তার মুখচোখ দেখে বোঝার উপায় নেই। ২১ বছরের নীরজ ভোপালের এক কলেজের বি টেক এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।নীরজ গলা উঁচিয়ে বলছে, সে–ই মুসলিম মহিলাদের নিলামে তোলার মতো অবমাননাকর অ্যাপটি বানিয়েছে। এর আগে মুম্বই পুলিশ এই অ্যাপের নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে, তার তদন্তে নেমে মায়াঙ্ক রাওয়াল(২১), বিশালকুমার ঝা(২৩)এবং অনুরূপ বয়সী শ্বেতা সিং নামে এক যুবতীকে গ্রেফতার করে। মুম্বই পুলিশ বলেছিল, এই অ্যাপ বানানোর হোতা হল শ্বেতা সিং নামে যুবতী। তাকে বাকি ২ জন সাহায্য করেছে। এরপরই নীরজ জিউ৪৪ নামে এক সাইট তৈরি করে সেখানে গত বুধবার ট্যুইট করে, ‘স্লাম্বাই(মুম্বই পুলিশকে ব্যঙ্গ করে বলা) পুলিশ, তোমরা ভুল লোককে গ্রেফতার করেছো।বুল্লি বাই অ্যাপ আমি তৈরি করেছি।যে দু’জন নিরপরাধকে তোমরা গ্রেফতার করেছো, তাদের থেকে কিছুই উদ্ধার করতে পারবে না। ওদের ছেড়ে দাও’।এরপরই মুম্বই পুলিশের টনক নড়ে। তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসমের জোরহাটের নীরজের সন্ধান পায় এবং তাকে গ্রেফতার করে আনে। পুলিশের দাবি, মাইক্রোসফট এর সফটওয়ার শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘গিটহাব’ ব্যবহার করে নীরজ ওই কদর্য অ্যাপটি ছড়িয়েছিল।যে কম্পিউটারের সাহায্যে ওই অ্যাপ তৈরি করে নীরজ তাও পুলিশ উদ্ধার করেছে।তবে মুম্বই পুলিশ এখনও ধাঁধার মধ্যে রয়েছে। কারণ নীরজ একা সব দায় নিজের কাঁধে নিয়ে অন্যদের কেন নিদোর্ষ বানাতে চাইছে, তা স্পষ্ট নয়। এর পিছনে অন্য কোনও চাল রয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।নীরজ পুলিশকে জানিয়েছে, ওই অ্যাপটি সে গত নভেম্বরেই তৈরি করে।বাজারে ছেড়েছে ৩১ ডিসেম্বর।একই সময়ে সে ট্যুইটারে ‘অ্যাট দ্য রেট অফ সেজ জিরো ইনটু ওয়ান’ নামে এক অ্যাকাউন্ট খুলে ‘বুল্লি বাই’ এর প্রচার করে।ধৃত শ্বেতা সিংয়ের বাড়ি উত্তরাখণ্ডে। অন্যদিকে নীরজের বাড়ি অসমে। সে পড়াশোনা করে ভোপালে।এদের কীভাবে যোগাযোগ তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।নীরজের আবভাব দেখেশুনে মনে হচ্ছে ওর পিছনে প্রভাবশালী কেউ রয়েছে। নয়তো এত বড় অপরাধ করার পরও এত বেপরোয়া কেন সে?

এক বছরও হয়নি, এভাবেই ‘সাল্লি ডিলস’ নামে এক কদর্য অ্যাপ বাজারে এনে সেবারও মুসলিম মেয়েদের ছবি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে নিয়ে অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় তাদের সম্বোধন করা হয়েছিল। তার সঙ্গেও নীরজ জড়িত কিনা পুলিশ দেখছে। তবে নীরজ যাই বলুক, শ্বেতাকে পুলিশ সন্দেহের বাইরে রাখছে না। সেও কম্পিউটারে দক্ষ।সাংবাদিক ইসমত আরা, যার ছবিও ‘বিক্রি রয়েছে’ বলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বুল্লিবাই অ্যাপে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন, ‘মুসলিম মেয়েদের মনে ভয় এবং হতাশা ছড়িয়ে যারা নতুন বছর শুরু করতে চাইল তাদের প্রতি একরাশ ঘৃণা ছাড়া আর কিছু প্রকাশ করার নেই। আজই আমার এক বান্ধবী জানাল যে, ওর ছবিও দেওয়া হয়েছে। ছি!ছি’!

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

এসআইআর-এর শুনানির নোটিস পেয়ে ছিলেন আতঙ্কে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বৃদ্ধার

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

অনুতাপ? উল্টে বুল্লিবাই স্রষ্টার হুঙ্কার, ‘যা করেছি, ঠিক করেছি’

আপডেট : ৮ জানুয়ারী ২০২২, শনিবার

নয়াদিল্লিঃ ‘কোনও অনুশোচনা নেই, যা করেছি ঠিক করেছি’, পুলিশের জেরার মুখে বললেন অসমের জোরহাট থেকে ধৃত কদর্য ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপের নির্মাতা বলে দাবিদার নীরজ বিষ্ণোই।শুক্রবার তাকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত নীরজকে ৭ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।পুলিশ হেফাজতে জেরার সময়ই নীরজ ভাবলেশহীন ভাবে এইসব কথা বলে। সে যে এত বড় অপরাধ করেছে তার মুখচোখ দেখে বোঝার উপায় নেই। ২১ বছরের নীরজ ভোপালের এক কলেজের বি টেক এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।নীরজ গলা উঁচিয়ে বলছে, সে–ই মুসলিম মহিলাদের নিলামে তোলার মতো অবমাননাকর অ্যাপটি বানিয়েছে। এর আগে মুম্বই পুলিশ এই অ্যাপের নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে, তার তদন্তে নেমে মায়াঙ্ক রাওয়াল(২১), বিশালকুমার ঝা(২৩)এবং অনুরূপ বয়সী শ্বেতা সিং নামে এক যুবতীকে গ্রেফতার করে। মুম্বই পুলিশ বলেছিল, এই অ্যাপ বানানোর হোতা হল শ্বেতা সিং নামে যুবতী। তাকে বাকি ২ জন সাহায্য করেছে। এরপরই নীরজ জিউ৪৪ নামে এক সাইট তৈরি করে সেখানে গত বুধবার ট্যুইট করে, ‘স্লাম্বাই(মুম্বই পুলিশকে ব্যঙ্গ করে বলা) পুলিশ, তোমরা ভুল লোককে গ্রেফতার করেছো।বুল্লি বাই অ্যাপ আমি তৈরি করেছি।যে দু’জন নিরপরাধকে তোমরা গ্রেফতার করেছো, তাদের থেকে কিছুই উদ্ধার করতে পারবে না। ওদের ছেড়ে দাও’।এরপরই মুম্বই পুলিশের টনক নড়ে। তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসমের জোরহাটের নীরজের সন্ধান পায় এবং তাকে গ্রেফতার করে আনে। পুলিশের দাবি, মাইক্রোসফট এর সফটওয়ার শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘গিটহাব’ ব্যবহার করে নীরজ ওই কদর্য অ্যাপটি ছড়িয়েছিল।যে কম্পিউটারের সাহায্যে ওই অ্যাপ তৈরি করে নীরজ তাও পুলিশ উদ্ধার করেছে।তবে মুম্বই পুলিশ এখনও ধাঁধার মধ্যে রয়েছে। কারণ নীরজ একা সব দায় নিজের কাঁধে নিয়ে অন্যদের কেন নিদোর্ষ বানাতে চাইছে, তা স্পষ্ট নয়। এর পিছনে অন্য কোনও চাল রয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।নীরজ পুলিশকে জানিয়েছে, ওই অ্যাপটি সে গত নভেম্বরেই তৈরি করে।বাজারে ছেড়েছে ৩১ ডিসেম্বর।একই সময়ে সে ট্যুইটারে ‘অ্যাট দ্য রেট অফ সেজ জিরো ইনটু ওয়ান’ নামে এক অ্যাকাউন্ট খুলে ‘বুল্লি বাই’ এর প্রচার করে।ধৃত শ্বেতা সিংয়ের বাড়ি উত্তরাখণ্ডে। অন্যদিকে নীরজের বাড়ি অসমে। সে পড়াশোনা করে ভোপালে।এদের কীভাবে যোগাযোগ তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।নীরজের আবভাব দেখেশুনে মনে হচ্ছে ওর পিছনে প্রভাবশালী কেউ রয়েছে। নয়তো এত বড় অপরাধ করার পরও এত বেপরোয়া কেন সে?

এক বছরও হয়নি, এভাবেই ‘সাল্লি ডিলস’ নামে এক কদর্য অ্যাপ বাজারে এনে সেবারও মুসলিম মেয়েদের ছবি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে নিয়ে অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় তাদের সম্বোধন করা হয়েছিল। তার সঙ্গেও নীরজ জড়িত কিনা পুলিশ দেখছে। তবে নীরজ যাই বলুক, শ্বেতাকে পুলিশ সন্দেহের বাইরে রাখছে না। সেও কম্পিউটারে দক্ষ।সাংবাদিক ইসমত আরা, যার ছবিও ‘বিক্রি রয়েছে’ বলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বুল্লিবাই অ্যাপে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন, ‘মুসলিম মেয়েদের মনে ভয় এবং হতাশা ছড়িয়ে যারা নতুন বছর শুরু করতে চাইল তাদের প্রতি একরাশ ঘৃণা ছাড়া আর কিছু প্রকাশ করার নেই। আজই আমার এক বান্ধবী জানাল যে, ওর ছবিও দেওয়া হয়েছে। ছি!ছি’!