পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভারতকে রুশ তেল কেনার ‘অনুমতি’ দেওয়ার দাবিকে ‘দেশের জন্য অবমাননাকর’ বলে অভিহিত করে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। শনিবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভারতের জ্বালানি নীতি এখন হোয়াইট হাউস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় প্রশ্নচিহ্ন।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান বজায় রাখতে আমেরিকা ভারতকে একটি নির্দিষ্ট ছাড় দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে থাকা রুশ তেল কেনার জন্য তারা ভারতকে ‘অনুমতি’ দিয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের জোগান পর্যাপ্ত রয়েছে। গতকাল ট্রেজারি বিভাগ আমাদের মিত্র ভারতকে সেই রুশ তেল কেনার অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে যা ইতিমধ্যে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতীয়রা খুব ভালো আচরণ করেছে। আমরা তাদের এই শরতে নিষিদ্ধ রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে বলেছিলাম। তারা তা শুনেছে। তারা সেই তেলের বদলে মার্কিন তেল ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে তেলের সাময়িক ঘাটতি মেটাতে আমরা তাদের রুশ তেল গ্রহণের অনুমতি দিয়েছি।”
মার্কিন আধিকারিকের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ সরব হন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ। স্কট বেসেন্টের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে তিনি লেখেন, “আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি কার্যত মোদী সরকারকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পালন করার জন্য একটি ‘শংসাপত্র’ দিয়েছেন। স্বঘোষিত ৫৬ ইঞ্চির ছাতি কতটা কাপুরুষ এবং আপসকারী হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে কি আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে?”


























