পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বেনজির ভাবে ৪৬ দিন আগে সংসদের বাদল অধিবেশনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এরপর তৃণমূল থেকে শুরু করে কংগ্রেস সব দলই সন্দেহ করছে যে, বিরোধীদের দাবি মেনে কেন্দ্র অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিশেষ অধিবেশন ডাকবে না। বুধবার তৃণমূল-এর রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভাষায় মোদি সরকার ‘পার্লামেন্টোফোবিয়া’য় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন। অর্থাৎ সহজ বাংলায় সংসদ- আতঙ্ক। ডেরেক অভিযোগ করেছেন, এটা বিস্ময়কর কোনও ঘটনা নয়।
এই সরকার আগাগোড়া সংসদে অন্য দলের মুখোমুখি হওয়ার আতঙ্কে ভোগে। সরকার অন্য দেশ এবং বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে সব কিছু বলছে। বলছে না শুধু দেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। কোন শর্তে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হল, এই যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকার কী ভূমিকা রয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বারবার বলছেন যে,যুদ্ধবিরতিতে তাঁর ভূমিকা ছিল, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফস অনিল চৌহান কেন হঠাৎ তিন সপ্তাহ পর বিদেশি মিডিয়ার কাছে স্বীকার করলেন যে, ভারতের কিছু ক্ষতি হয়েছে, যুদ্ধে দু’পক্ষেরই কিছু ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক, এইসব নিয়ে সরকারের কাছে বিরোধীদের কি কোনও জিজ্ঞাস্য নেই? তবে কেন কেন্দ্র সংসদ এড়িয়ে চলছে?
এ দিন কংগ্রেসের জয়রাম রমেশও বলেছেন, এর আগে কখনও সংসদের কোনও অধিবেশনের নির্ঘণ্ট ৪৬ দিন আগে ঘোষিত হয়নি। এত আগে থেকে যখন সরকার বাদল অধিবেশনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিয়েছে তখনই বোঝা যাচ্ছে, এরা অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিশেষ অধিবেশন ডাকবে না। ডেরেকের এই পার্লামেন্টোফোবিয়া শধ চয়ন কেম্ব্রিজ অভিধানে ‘গ্লসোফোবিয়া’র কথা মনে করিয়ে দেয়। গ্লসোফোবিয়া মানে জনমত-এর আতঙ্ক। যেমন, ইদানীং বহুল প্রচলিত শধ হয়ে উঠেছে ‘ইসলামোফোবিয়া’। অর্থাৎ ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্ক।