পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কেন হঠাৎ পদত্যাগ করলেন, তা নিয়েই নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। রবিবার দিল্লি যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি।
বোস বলেন, “প্রবেশ ঘটলে প্রস্থানও অনিবার্য। রাজ্যপাল হিসেবে প্রায় বারোশো দিন দায়িত্ব পালন করেছি।
আরও পড়ুন:
তবে রাজনৈতিক চাপের কারণেই বোসকে পদ ছাড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কিছু বলতে চাননি তিনি। সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “শুনলাম। কোনও পদক্ষেপও নেই, প্রতিক্রিয়াও নেই।
” পাশাপাশি তিনি জানান, দিল্লিতে গিয়ে নয়, কলকাতাতেই বসে রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই কেন এই সিদ্ধান্ত— এমন প্রশ্নের উত্তরে বোস বলেন, “খেলায় যেমন একটা সময় থাকে কখন খেলা শেষ করতে হবে তা বোঝার, তেমনই দায়িত্বের ক্ষেত্রেও সময় বোঝা জরুরি। নতুন রাজ্যপালের আগমন মানেই পুরনো রাজ্যপালের প্রস্থান। সেই সুযোগেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
রাজ্যপালের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি যে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন বোস। তাঁর কথায়, “আমি পশ্চিমবঙ্গের গর্বিত ভোটার। ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। তাই ভোট দিতে আমি অবশ্যই আসব।”
তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভেবেচিন্তেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপাতত কারণ প্রকাশ করতে চান না, সময় এলেই সব জানা যাবে।
উল্লেখ্য, এর আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন জগদীপ ধনকর। তিনি উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্বে আসেন আনন্দ বোস। কেরলের বাসিন্দা হলেও পশ্চিমবঙ্গ ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি নিজের টান বারবার প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এমনকি বাংলা ভাষা শেখার উদ্যোগও নিয়েছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর মতভেদ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু