পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এক সাক্ষাৎকারে ইউরোপীয় নেতাদের ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়েছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমিয়ে দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ এবং রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দিয়ে ইউরোপ বরং পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। যুদ্ধের দ্রুত অবসান চেয়ে তিনি ইউক্রেনকে মস্কোর কাছে কিছু ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার কথাও বলেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধ অবসানের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে ৬০–৯০ দিনের মধ্যে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনও সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সমঝোতা প্রস্তাব পড়েই দেখেননি। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধকে অজুহাত করে ইউক্রেন নির্বাচন এড়াচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) বিষয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন,“জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মূলত দাসদের সন্তানদের জন্য চালু হয়েছিল, বিদেশি ধনী পরিবারগুলোর জন্য নয়। এখন অনেক ধনী পরিবার কেবল এখানে সন্তান জন্ম দিয়ে পুরো পরিবারকে মার্কিন নাগরিক বানানোর চেষ্টা করছে।”

তার প্রশাসনের জারি করা নির্বাহী আদেশের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, যদি আদালতে এই আদেশ বাতিল হয়, তা হবে ‘ধ্বংসাত্মক’। যুক্তরাষ্ট্র জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার বলেন, ইউরোপ দুর্বল নয়,বরং শক্তিশালী।