পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পাঁচ দেশে করোনার বেলাগাম সংক্রমণ এবং গুজরাত-ওড়িশায় চিনে তাণ্ডব চালানো মারণ ভাইরাসের উপপ্রজাতি শনাক্ত হওয়ার পরেই শুরু হয়েছে হাড়কাঁপুনি। ফের কী তাহলে মারণ ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত রুখতে ফের কড়া বিধি-নিষেধ চালু হবে-এমন প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘করোনা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে রাজ্য সরকার। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। নির্ধারিত সূচি মেনেই উদযাপিত হবে গঙ্গাসাগর মেলা, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ। ওই তিন উৎসব পালনের উপরে আলাদা করে কোনও কোভিড বিধি চাপানো হবে না।’
আরও পড়ুন:
বুধবারই নবান্নে গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠকে করোনা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই নির্দেশের পরেই তড়িঘড়ি নজরদারি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
নবান্নে এদিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকেও বসেছিলেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। বৈঠকে নমুনা পরীক্ষার উপরে জোর দেওয়ার পাশাপাশি সতর্কতা হিসেবে ভিড়ের জায়গায় মাস্ক ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।এদিন বিকেলে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা জানাতে রাজভবনে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় আধ ঘন্টার মতো ছিলেন। রাজভবন থেকে বেরনোর সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মেরি ক্রিসমাস এবং হ্যাপি নিউ ইয়ার জানাতে এসেছিলাম। রাজ্যপাল খুবই ভালো ও ভদ্র মানুষ। উনি আমাদের সঙ্গে সব বিষয়ে খুব সহযোগিতা করে চলছেন। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
ওনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’চিনে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফের মারণ ভাইরাস তাণ্ডব চালাতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা নিয়ে আমরা মনিটরিং করছি। এখানে যদি আসে আমরা সেইভাবে রাজ্যবাসীকে নিয়ন্ত্রণ করব। আমাদের এখানে এখনও কিছু নেই। যদি হয় তখন সতর্কতা অবলম্বন করব।’ মাস্ক পরা সহ কঠোর বিধি-নিষেধ চালু হচ্ছে কিনা, জানতে চাওয়া হলে কিছুটা উষ্মাপ্রকাশ করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, ‘মানুষ উৎসব পালন করবে না? গত বছরও গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষ-লক্ষ মানুষ এসেছিলেন।
আরও পড়ুন:
সবাই কোভিড বিধি মেনে স্নানে অংশ নিয়েছেন।
উৎসব পালন করেছেন। এবারেও তেমন ভাবেই উৎসব পালন হবে। এখনও যাতে রাজ্যে করোনার তেমন প্রকোপ নেই, তাই মানুষ ইচ্ছেমতো ঘুরছেন। যদি পরিস্থিতির অবনতি হয়, এখানেও আসে আমরা নিশ্চয়ই বলব, মাস্ক পরুন। কিন্তু এত লোককে তো আমাদের পক্ষে জনে জনে বলা সম্ভব নয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ হয়। এখনও বাংলায় যেহেতু আসেনি, সে জন্য আগে থেকে আসবে এটা ধরে নিতে চাই না। আমরা পরিস্থিতির উপর মনিটরিং করছি। সেইরকম হলে সময়মতো ব্যবস্থা নেব।’আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সরকার বিরোধী প্রচার মাধ্যমে স্বঘোষিত স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীরা যেভাবে করোনা জুজু দেখাতে শুরু করেছেন তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তুলতে সুপরিকল্পিতভাবেই করোনা সংক্রমণ নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলেও ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।