বেসরকারি বাস মালিকদের চিঠি পরিবহণ দফতরকে
পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: নিয়মানুযায়ী আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাতীয় সড়কে (National Highway) টোল ট্যাক্স বাড়তে চলেছে। মঙ্গলবার থেকে জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করা বাস, ছোট গাড়ি এবং ভারী যানবাহনের ওপর টোল ট্যাক্স বাড়াতে চলেছেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। টোল ট্যাক্স বাড়ার জন্য বেকায়দায় পড়তে চলেছে বেসরকারি বাস মালিকের সংগঠন। টোল ট্যাক্স যাতে বাড়ানো না হয়, সেজন্য পরিবহণ দফতরের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে চিঠি দিল বেসরকারি বাস মালিকের সংগঠন, জয়েন্ট কাউন্সিল অফ সিন্ডিকেট। সেই চিঠিতে বেসরকারি বাস মালিকরা জানাচ্ছেন, গত ৮ বছর ধরে বেসরকারি বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। তার ফলে এমনিতেই অর্থকরী দিক থেকে সমস্যায় পড়েছেন বেসরকারি বাস মালিকরা। বেসরকারি বাসভাড়া না বাড়ানোর নেপথ্যে রাজ্য সরকারেরও সায় রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সড়কে টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি পেলে আবার খরচ বেড়ে যাবে বেসরকারি বাস মালিকদের।
সেই কারণেই যাতে টোল ট্যাক্স না বাড়ে সেজন্য অনুরোধ করা হয়েছে বেসরকারি বাস মালিকদের তরফে।আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
বাস মালিকদের একাংশের দাবি, করোনা অতিমারীর সময়ে দীর্ঘদিন লকডাউন ছিল। সেই সময় বাস বের করা যায়নি রাস্তায়। তার জেরে পরিবহণ ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছিল বেসরকারি বাস মালিকদের। এর মধ্যে জাতীয় সড়ক (National Highway) কর্তৃপক্ষ যদি নিজেদের টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি জারি রাখে. তাহলে বাস পরিষেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এমনটাই জানিয়েছেন জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের এক নেতা জানান, বেসরকারি পরিবহণ ব্যবসা কীভাবে মার খাচ্ছে, তা আমরা বাস মালিকরা টের পাচ্ছি। টোল ট্যাক্স বৃদ্ধির ফলে জাতীয় সড়কগুলিতে বাস চালানোর খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির নেতাদেরও।
তাঁদের বক্তব্য বাস মালিকদের সঙ্গে কথা না বলে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপাতে পারেন না।আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন: Eid ul-Fitr-এ ঘরে ফেরার তাড়া, বাদুড়ঝোলা ভিড় ট্রেন-বাসে
আরও পড়ুন:
রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা জাতীয় সড়কগুলিতে (National Highway) টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি করতে কেন্দ্রীয় পূর্ত সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনই রাজ্য সরকারেরও ভূমিকা রয়েছে। সেই কারণেই বেসরকারি পরিবহণ সংগঠনগুলির দাবি, রাজ্য সরকার তাদের দাবির কথা কেন্দ্রকে জানাক। উল্লেখ্য, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আইন রয়েছে। সেই আইনে বলা হয়েছে। জাতীয় সড়ক সমলগ্ন একটা সার্ভিস রোড রাখতে হবে। কোনও ব্যক্তি চাইলে জাতীয় সড়ক (National Highway) ব্যবহার না করে সেই সার্ভিস রোড ধরে টোল না দিয়েই যাতায়াত করতে পারেন। কিন্তু আমাদের রাজ্যে কোথাও জাতীয় সড়কের সঙ্গে সার্ভিস রোড রাখা হয়নি।
সেক্ষেত্রে জাতীয় সড়কের টোল ট্যাক্স নীতি মেনে প্রতি বছর যদি একবার করে ট্যাক্স বাড়ানো হয়, তাহলে নিয়ম মেনে কেন বিকল্প সার্ভিস রোড তৈরি হবে না? পরিবহণ দফতরকে দেওয়া চিঠিতে এই সার্ভিস রোড ইস্যুটিও তুলে ধরা হয়েছে। এই মুহূর্তে রাজ্যে সব প্রান্ত মিলিয়ে ৫২ টি জাতীয় সড়ক রয়েছে। জাতীয় সড়ক (National Highway) কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পয়লা এপ্রিল থেকে জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা গাড়ি ও হালকা যানবাহনের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ এবং ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে জাতীয় সড়কে প্রতি কিলোমিটারে ২.১৯ টাকা করে ট্যাক্স নেওয়া হয়। বর্ধিত হারে এই টোল ট্যাক্স বাড়বে। কী পরিমাণ বাড়বে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও টোল প্লাজার ওপর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেবলমাত্র রাজ্যে শুধুমাত্র দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা বিদ্যাসাগর সেতুর টোল ট্যাক্স আদায় করে রাজ্য সরকার। ১৯৯২ সালে এই সেতুর ওপর চলাচলকারী সেতুর জন্য যে পরিমাণ ট্যাক্স নেওয়া হত, আজও সেই ট্যাক্সের হার অপরিবর্তিত রয়েছে। সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বোর টোল ট্যাক্স না বাড়াক সেটাই চাইছে রাজ্যের বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলি।আরও পড়ুন:
https://www.youtube.com/watch?v=UqDaUOvXAaQ