ভোটের আবহে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত ৮০০ কর্মীকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে তাদের দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর আগেই গত ১২ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভোটের আগে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন’ চালানো হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘স্লো ভোটিং’ ও ‘স্লো কাউন্টিং’-এর পরিকল্পনার পাশাপাশি অনেক কর্মীকে গ্রেপ্তারের ছকও কষা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সভা থেকে বলেছিলেন, “ভোটের মেশিন খুব সাবধান।
এদের প্ল্যান স্লো ভোটিং, স্লো কাউন্টিং। প্রথমে দেখাবে বিজেপি জিতছে। অনেককে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে। মধ্যরাত থেকে অপারেশন শুরু হবে।” তাঁর দাবি, বিজেপির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা ধরনের পদক্ষেপ করছে।এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শাসকদল। সোমবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাই কোর্টে জানান, জাতীয় নির্বাচন কমিশন পুলিশের মাধ্যমে গোটা বাংলা থেকে প্রায় ৮০০ তৃণমূল কর্মীর নাম সংগ্রহ করেছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা রয়েছে। আদালতের কাছে তিনি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান এবং দ্রুত শুনানির আর্জি জানান।
আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। এখন আগামী বুধবার এই মামলার শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।