পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে তাঁর দেশ "অর্থপূর্ণ ও চূড়ান্ত আলোচনা সহজতর করতে" প্রস্তুত।শেহবাজ শরিফ এক্স-এ একটি পোস্টে এই মন্তব্যটি করেন।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানানোর পর, ইরান ও মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিকভাবে আলোচনার জন্য চাপ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানও অন্যতম।
শরিফ লিখেছেন," মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্মতি সাপেক্ষে, চলমান সংঘাতের একটি পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির জন্য অর্থপূর্ণ ও চূড়ান্ত আলোচনা সহজতর করতে আয়োজক হতে পাকিস্তান প্রস্তুত ও সম্মানিত বোধ করছে।"
আমেরিকা এবং ইরান মুখোমুখি আলোচনায় বসলে, তা কোথায় হতে পারে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি-ইঙ্গিতের পর থেকেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে উঠে আসছে পাকিস্তানের নাম। রয়টার্স জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা এবং ইরান। জানা যাচ্ছে, তুরস্ক এবং মিশরও পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলার ফলে গত সাড়ে তিন সপ্তাহ ধরে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় এক অস্থিরতা তৈরি হয়ে রয়েছে।
বাণিজ্যিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে ইরান। যার প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বের বাণিজ্যে। এ অবস্থায় গত শনিবারই ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়ে দেন, ইরান হরমুজ় প্রণালী না খুলে দিলে তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে আমেরিকা। কিন্তু সেই দাবি থেকে সোমবার হঠাৎই ‘পিছু হটেন’ ট্রাম্প।
জানান, ইরানের কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী পাঁচ দিন হামলা হবে না। ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্বে তা ইতিবাচক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তেহরান অবশ্য দাবি, এমন কোনও আলোচনাই হয়নি আমেরিকার সঙ্গে। তবে ইউরোপীয় বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সরাসরি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়নি ঠিকই। তবে ‘পরোক্ষ আলোচনা’ হয়েছে। মিশর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বার্তা চালাচালি করেছে। এক পাকিস্তানি আধিকারিক এবং ইজ়রায়েলের বেশ কয়েক জন আধিকারিক সূত্রে রয়টার্স জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা এবং ইরান।