ত্রিপুরায় রাজ্য সরকারে শরিক হয়েও স্বশাসিত জেলা কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনে বিজেপিকে কার্যত ধরাশায়ী করল প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মার দল তিপ্রা মথা। শুক্রবার ভোটগণনার শেষে দেখা যায়, ২৮টি আসনের মধ্যে ২৪টিতেই জয় পেয়েছে তিপ্রা মথা। অন্যদিকে বিজেপি জিতেছে মাত্র ৪টি আসনে। একটিও আসন পায়নি সিপিএমের গণমুক্তি পরিষদ বা আইপিএফটি।
আরও পড়ুন:
সকাল থেকেই ভোটের ট্রেন্ডে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, প্রদ্যোতের দল বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত সেই ইঙ্গিতই সত্যি হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু জনজাতি ভোট নয়, একাধিক এলাকায় বাঙালি হিন্দু ও মুসলিম ভোটারদের সমর্থনও তিপ্রা মথার ঝুলিতে গিয়েছে। ফলে বিজেপির জন্য এই ফল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।আরও পড়ুন:
পাঁচ বছর আগে এডিসি নির্বাচনে বিজেপি ১৩টি আসনে লড়ে ৯টিতে জয় পেয়েছিল। তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিপ্লব কুমার দেব এবং তিপ্রা মথা ছিল আলাদা শক্তি।
সে বার তিপ্রা মথা ১৬টি আসনে জিতে কাউন্সিল দখল করেছিল। কিন্তু এ বার ২৮টি আসনে লড়ে বিজেপির জয় মাত্র ৪টিতে সীমাবদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক মহলে একে বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
২০২০ সালে কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গড়েন প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মা। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে তাঁর দল বিজেপি সরকারের শরিক হলেও, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা-র সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। এডিসি ভোটের আগে দুই দলের মধ্যে সেই দূরত্ব আরও বেড়েছিল।
আরও পড়ুন:
জয়ের পর প্রদ্যোত বলেন, “এই জয় মানুষের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। কিছু নেতা চেয়েছিলেন আমরা আপস করি, কিন্তু আমরা তা করিনি।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপির সঙ্গে শরিক থাকলেও রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার বার্তাই দিতে চেয়েছে তিপ্রা মথা।
আরও পড়ুন:
এই ফলাফলে ত্রিপুরার জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। সরকারে থেকেও বিজেপির বিরুদ্ধে এমন বিপুল জয় তিপ্রা মথার রাজনৈতিক শক্তি যে অনেক বেড়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।