মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে সোমবার মোদি সরকারের সমালোচনা করে কংগ্রেস বলেছে, পাকিস্তান সেনাপ্রধান ওয়াসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'অত্যন্ত প্রিয়পাত্র' হয়ে ওঠা ভারতের জন্য একটি 'বিশাল ধাক্কা', এবং দেশটির কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার কৌশলে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।বিরোধী দল দাবি করেছে যে, ভারতের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা কৌশলের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি "একেবারেই অক্ষম"।
এক্স-এ একটি পোস্টে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়রাম রমেশ বলেছেন, "পণ্ডিত এবং সদা পরিপাটি পোশাক পরিহিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী ‘এজেন্ট ’ দেশটি আজ মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন করছে বলে জানা গেছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ এপ্রিল এই আলোচনার প্রথম দফা শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নেওয়া ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে এবং ১.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইউরোবন্ডের একটি কিস্তি মেটাতে সউদি আরব ও কাতার থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়েছে।রমেশ বলেছেন, এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী মোদির আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা এবং আখ্যান পরিচালনার বিষয়বস্তু ও শৈলী পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে দেশটি সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিচিতি লাভ করেছে—যা ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর ড. মনমোহন সিং যা অর্জন করতে পেরেছিলেন, তার থেকে ভিন্ন।
তিনি বলেন ,"ভারতের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার কৌশল ও রণনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন - যা করতে মিঃ মোদি একেবারেই অক্ষম। "
কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর ১১ এপ্রিল বলেছেন যে, এই বিষয়ে তিনি ভারতকে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেখছেন না এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, "শান্তি এলে কে শান্তি আনল তা বিবেচ্য নয়"।
থারুর জোর দিয়ে বলেছেন যে, পাকিস্তান যদি কোনো নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে শান্তিস্থাপক হিসেবে আবির্ভূত হয়, তাতে তার অতীতের অপকর্মের প্রমাণ মুছে যায় না।পাকি
পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়েও থারুর পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন, যেখানে তিনি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে কূটনীতির সুযোগ দিতে দুই সপ্তাহের সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই, ব্যবহারকারীরা এর সম্পাদনার ইতিহাসের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেন, যেখানে দেখা যায় যে শুরুতে এতে লেখা ছিল: "খসড়া — এক্স-এর উপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা।"
ভাইরাল হওয়া পোস্টটির প্রসঙ্গে থারুর বলেন, "আপনারা কি জানেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাকিস্তানের কী ধরনের সম্পর্ক?"
অভিযোগ উঠেছে যে, ওয়াশিংটন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ওই টুইটটি লিখেছিল। আপনি বা আমি যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য কিছু লিখতাম, তাহলে কি তার উপরে লিখতাম ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য খসড়া’? দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন থারুর।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, শরিফের পোস্টটি কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা একটি পোস্টের অনুরূপ ছিল। থারুর বলেন, "ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাকিস্তান যে ধরনের ভূমিকা পালন করেছে, তা কেবল পাকিস্তানই করতে পারে।"যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এক বিরল সরাসরি আলোচনা করেছিল, কিন্তু সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
ট্রাম্প নতুন করে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন, যা বুধবারের মধ্যে শেষ হতে চলা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আশা জাগিয়েছে।
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন আলোচকদল সোমবার ইসলামাবাদে থাকবেন।
তবে, দ্বিতীয় দফার আলোচনায় তেহরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।