কর্মী ও সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের নতুন গোপনীয়তা আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করছেন। তাঁদের যুক্তি, এই আইন সাংবাদিকতার ওপর  ‘ভয়ানক ’ প্রভাব ফেলবে এবং কর্মকর্তাদের জনস্বার্থের তথ্য গোপন করার সুযোগ করে দেবে।
গণমাধ্যম ও অধিকারকর্মীদের এই সমালোচনার জেরে যে, মোদি  সরকার ২০ বছরের পুরনো তথ্য অধিকার আইনকে দুর্বল করে দিচ্ছে, সোমবার সর্বোচ্চ আদালতে চারটি মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।কঠোর বিষয়বস্তু অপসারণ নীতির মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের দায়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকারও সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।


সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে, তারা কেবল বেআইনি বিষয়বস্তু অপসারণের নির্দেশ দেয় এবং আরটিআই আইন ‘সর্বোচ্চ প্রকাশ ও সর্বনিম্ন অব্যাহতি’-র নীতি অনুসরণ করে চলেছে।সর্বশেষ বিতর্কটি আরটিআই আইনের একটি এক-লাইনের সংশোধনীকে ঘিরে, যা ‘ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন’ নামক নতুন গোপনীয়তা আইনের সঙ্গে নভেম্বরে কার্যকর হয়েছে এবং এতে যেকোন ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ প্রকাশ করা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পূর্বে, এই আইন কর্মকর্তাদের ‘জনস্বার্থে’ এই ধরনের তথ্য প্রকাশ করার অনুমতি দিত।
মামলাগুলোতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, আইনের এই পরিবর্তনটি বাতিল করা উচিত, কারণ এটি সরকারকে জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে বাধা দেওয়ার সুযোগ দেবে এবং সাংবিধানিক নীতিগুলোকে ক্ষুণ্ণ করবে।

এই আইনের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে অন্যতম স্বচ্ছতা কর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ রয়টার্সকে বলেছেন, উদাহরণস্বরূপ, এই নতুন আইনটি সরকারকে কথিত নিম্নমানের প্রকল্পে জড়িত ঠিকাদার বা কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা দিতে পারে।
রয়টার্স কর্তৃক পর্যালোচিত আদালতে দাখিল করা এক নথিতে আরটিআই কর্মী ভেঙ্কটেশ নায়েক বলেছেন, এই পরিবর্তন "অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য মৃত্যুঘণ্টা এবং উন্মুক্ত শাসনের ধারণার জন্য ধ্বংসাত্মক।"কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক এবং কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগ, যাদের ওপর আরটিআই আইনের দায়িত্ব রয়েছে, তারা এই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে রয়টার্সের করা প্রশ্নের কোন উত্তর দেয়নি।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব গত বছর সংসদে বলেছিলেন যে এই পরিবর্তনগুলি "ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে বাধা দেবে না" এবং "ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে তথ্য জানার অধিকারের ভারসাম্য রক্ষা করবে।"