ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠকেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চরম উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ হয়েছে চুক্তিহীনভাবেই। ফলে দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও দেশটির সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি প্রতিবেদনে ব্যর্থতার কারণ তুলে ধরেছে।

ইরানি প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, মূলত Strait of Hormuz এবং পরমাণু কর্মসূচি—এই দুই স্পর্শকাতর ইস্যুতেই দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়।
ইরানি সূত্রের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এমন কিছু শর্ত চাপিয়েছে যা ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী’। তাদের কথায়, “যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করা সম্ভব হয়নি, আলোচনার টেবিলে বসে যুক্তরাষ্ট্র সেই লক্ষ্যই পূরণ করতে চাইছে।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই দশক ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক টানাপোড়েনের।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ ২১ দিনের সংলাপও কোনো ফল দেয়নি। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক তৎপরতা চালায়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৭ এপ্রিল দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল নতুন করে আলোচনায় বসেছিল দুই দেশ। তবে দীর্ঘ সময়ের বৈঠকের পরও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।