দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের প্রস্তুতির পর আজ শুরু হচ্ছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট দেবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। গত নভেম্বর মাসে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নানা ইস্যুতে যে রাজনৈতিক লড়াই চলেছে, তার প্রথম রায় আজ ইভিএমে জানাবেন ভোটাররা।

তবে এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলগুলির জন্য নয়, বড় পরীক্ষা নির্বাচন কমিশনেরও। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এ বার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, প্রতিটি কেন্দ্রে জেনারেল অবজ়ার্ভার, বিপুল পুলিশবাহিনী, বুথের ভিতর-বাইরে ক্যামেরা নজরদারি এবং টানা ওয়েবকাস্টিং— সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন কঠোর নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে।


কিন্তু বাংলার অতীত নির্বাচনী ইতিহাস নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। অতীতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটের দিন বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট, ভোটারদের বাধা দেওয়া, এমনকি হিংসা ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূমের মতো একাধিক জেলা অতীতে ভোট-হিংসার সাক্ষী। তাই আজকের ভোটে আদৌ হিংসামুক্ত, অবাধ ও স্বচ্ছ পরিবেশ বজায় থাকে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক দল থেকে সাধারণ ভোটার— সকলেই।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। কমিশনের দাবি, এ বার ভোটের আগে বড় ধরনের হিংসার ঘটনা এখনও পর্যন্ত ঘটেনি বললেই চলে।

যদিও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জায়গা থেকে ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রচারে বাধার অভিযোগ এসেছে, তবে সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এবারের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস একাধিক অভিযোগ তুলেছে। দলের অভিযোগ, পর্যবেক্ষকদের মৌখিক নির্দেশে বহু গ্রেপ্তারি হয়েছে, যা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের শামিল। যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, পর্যবেক্ষকরা সরাসরি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন না; অভিযোগ পেলে তাঁরা তা পুলিশের কাছে পাঠান মাত্র।
এই বিতর্কের মধ্যেও রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, মানুষ সব অভিযোগের জবাব ব্যালটে দেবে এবং বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে। অন্যদিকে বিজেপিও জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনও সংস্থার ভরসায় নয়, মানুষের সমর্থন নিয়েই ভোটে নেমেছে এবং জয় সম্পর্কে তারা আশাবাদী।

প্রথম দফার ভোটে একাধিক হাই-প্রোফাইল আসন রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে বিশেষ নজর থাকবে। পাশাপাশি বহু বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কেন্দ্রে। এছাড়া তৃণমূলের উদয়ন গুহ, মলয় ঘটক, গৌতম দেব এবং বিজেপির দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা আজ ভাগ্যপরীক্ষায় নামছেন।