০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হিন্দু পাড়ায় চুড়ি বিক্রির অপরাধে ইন্দোরে মুসলিম যুবককে গণপিটুনি

পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ কখনও গরু চুরির অপবাদ তো কখনও মাংস ভক্ষণ, ২০১৪ সালে মোদি জমানার শুরু থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর গণপিটুনির ঘটনা অনেকটাই বেড়েছে গোটা দেশে। সংখ্যালঘু অধিকার সব থেকে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ,  মধ্যপ্রদেশ সহ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে। এবার হিন্দু পাড়ায় চুড়ি বিক্রির অপরাধে এক মুসলিম চুড়ি বিক্রেতাকে বেধড়ক মার খেতে হল মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে। অভিযোগ,  ২৫ বছরের এক চুড়ি বিক্রেতাকে বেধড়ক মারধর করে একদল জনতা৷ ছিনিয়ে নেওয়া হয় নগদ ১০ হাজার টাকা৷ গণপিটুনির ভিডিও ভাইরাল হতেই উত্তেজনা ছড়াতে থাকে৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় বিক্ষোভ জানান বহু মানুষ৷ পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দিলেও রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী ঘটনার দায় ওই মুসলিম যুবকের ঘাড়েই চাপিয়েছেন৷ বলেছেন, পরিচয় লুকিয়ে হিন্দু নাম নিয়েছিল৷ ধরা পড়তেই মার খেয়েছে৷

কয়েকদিন আগে ইন্দোরের গোবিন্দ নগরে একটি জনবহুল এলাকায় চুড়ি বিক্রি করছিল মুহাম্মদ তাসলিম নামে এক যুবক৷ হঠাৎ তাঁকে ঘিরে ধরে কয়েকজন যুবক৷ কিছু বুঝে ওঠার আগেই চুড়ি বিক্রেতাকে মারতে শুরু করেন ওই যুবকরা৷ ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে,  তাসলিমের ধর্ম তুলে গালিগালাজ করতে থাকেন তাঁরা৷ এমনকী পথচলতি মানুষকেও এগিয়ে এসে ওই যুবককে মারধরের জন্য ইন্ধন দিতে থাকেন৷

তাসলিম সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও তাঁকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি৷ উল্টে ভিড়ের মধ্যে থেকে ৩-৪ জন এসে তাঁকে পেটাতে শুরু করেন৷ গণধোলাইয়ের জেরে কাচের চুড়িগুলিও ভেঙে যায়৷ এর পর তাসলিমের কাছে থাকা ১০ হাজার ছিনিয়ে নেয় ওই যুবকেরা৷ পরে তাসলিম বলেন, ‘ওরা আমার নাম-পরিচয় জানতে চেয়েছিল৷ বলার পর হঠাৎ মারতে শুরু করে৷ আমার কাছে ১০ হাজার টাকা ছিল৷ সেটা ছিনিয়ে নেয়৷ কাচের চুড়ি ভেঙে চুরমার করে দেয়৷’

সোশ্যাল মিডিয়ায় মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়৷ তার পর গত রবিবার থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষ৷ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা৷ এর পরই দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা, মারধর, লুট, ভয় দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ৷ পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত থাকার আবেদন জানায় তারা৷ সোশাল মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত পোস্ট না করার অনুরোধ করা হয়৷

যদিও রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েই কথা বলেন৷ জানান,  ভুয়ো পরিচয়ে ব্যবসা করছিল ছেলেটি৷ ওর আসল পরিচয় জানার পরই মারধর করা হয়৷

এদিকে গোটা ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সর্বভারতীয় চেয়ারম্যান ইমরান প্রতাপগাড়ী। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে কটাক্ষ করে ইমরান বলেন, “ইন্দোরে প্রকাশ্যেই গণপিটুনি চলছে। নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে শিবরাজ প্রশাসন।”

সর্বধিক পাঠিত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি পুত্র মোজতবা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হিন্দু পাড়ায় চুড়ি বিক্রির অপরাধে ইন্দোরে মুসলিম যুবককে গণপিটুনি

আপডেট : ২৩ অগাস্ট ২০২১, সোমবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ কখনও গরু চুরির অপবাদ তো কখনও মাংস ভক্ষণ, ২০১৪ সালে মোদি জমানার শুরু থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর গণপিটুনির ঘটনা অনেকটাই বেড়েছে গোটা দেশে। সংখ্যালঘু অধিকার সব থেকে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ,  মধ্যপ্রদেশ সহ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে। এবার হিন্দু পাড়ায় চুড়ি বিক্রির অপরাধে এক মুসলিম চুড়ি বিক্রেতাকে বেধড়ক মার খেতে হল মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে। অভিযোগ,  ২৫ বছরের এক চুড়ি বিক্রেতাকে বেধড়ক মারধর করে একদল জনতা৷ ছিনিয়ে নেওয়া হয় নগদ ১০ হাজার টাকা৷ গণপিটুনির ভিডিও ভাইরাল হতেই উত্তেজনা ছড়াতে থাকে৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় বিক্ষোভ জানান বহু মানুষ৷ পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দিলেও রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী ঘটনার দায় ওই মুসলিম যুবকের ঘাড়েই চাপিয়েছেন৷ বলেছেন, পরিচয় লুকিয়ে হিন্দু নাম নিয়েছিল৷ ধরা পড়তেই মার খেয়েছে৷

কয়েকদিন আগে ইন্দোরের গোবিন্দ নগরে একটি জনবহুল এলাকায় চুড়ি বিক্রি করছিল মুহাম্মদ তাসলিম নামে এক যুবক৷ হঠাৎ তাঁকে ঘিরে ধরে কয়েকজন যুবক৷ কিছু বুঝে ওঠার আগেই চুড়ি বিক্রেতাকে মারতে শুরু করেন ওই যুবকরা৷ ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে,  তাসলিমের ধর্ম তুলে গালিগালাজ করতে থাকেন তাঁরা৷ এমনকী পথচলতি মানুষকেও এগিয়ে এসে ওই যুবককে মারধরের জন্য ইন্ধন দিতে থাকেন৷

তাসলিম সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও তাঁকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি৷ উল্টে ভিড়ের মধ্যে থেকে ৩-৪ জন এসে তাঁকে পেটাতে শুরু করেন৷ গণধোলাইয়ের জেরে কাচের চুড়িগুলিও ভেঙে যায়৷ এর পর তাসলিমের কাছে থাকা ১০ হাজার ছিনিয়ে নেয় ওই যুবকেরা৷ পরে তাসলিম বলেন, ‘ওরা আমার নাম-পরিচয় জানতে চেয়েছিল৷ বলার পর হঠাৎ মারতে শুরু করে৷ আমার কাছে ১০ হাজার টাকা ছিল৷ সেটা ছিনিয়ে নেয়৷ কাচের চুড়ি ভেঙে চুরমার করে দেয়৷’

সোশ্যাল মিডিয়ায় মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়৷ তার পর গত রবিবার থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষ৷ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা৷ এর পরই দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা, মারধর, লুট, ভয় দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ৷ পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত থাকার আবেদন জানায় তারা৷ সোশাল মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত পোস্ট না করার অনুরোধ করা হয়৷

যদিও রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েই কথা বলেন৷ জানান,  ভুয়ো পরিচয়ে ব্যবসা করছিল ছেলেটি৷ ওর আসল পরিচয় জানার পরই মারধর করা হয়৷

এদিকে গোটা ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সর্বভারতীয় চেয়ারম্যান ইমরান প্রতাপগাড়ী। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে কটাক্ষ করে ইমরান বলেন, “ইন্দোরে প্রকাশ্যেই গণপিটুনি চলছে। নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে শিবরাজ প্রশাসন।”