মায়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চীন সীমান্তসংলগ্ন একটি খনির বিস্ফোরক গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রবিবার দুপুরে দেশটির শান রাজ্যের নামখাম জনপদের কাউংটুপ গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন:
উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ছয় শিশুসহ ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং বহু ঘরবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বসতি এবং উদ্ধার তৎপরতার চিত্র দেখা গেছে।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, খনি ও পাথর কোয়ারির কাজে ব্যবহারের জন্য একটি ভবনে বিপুল পরিমাণ ‘জেলিগনাইট’ বিস্ফোরক মজুত রাখা হয়েছিল।
সেখান থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।আরও পড়ুন:
বর্তমানে এলাকাটি জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বিস্ফোরণের ঘটনা স্বীকার করে জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, খনি শিল্পে ব্যবহৃত জেলিগনাইট দীর্ঘদিন সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে তা অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এবং সামান্য ত্রুটিতেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
আরও পড়ুন:
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।