বাংলার পাশাপাশি আজ গণতন্ত্রের মহাযজ্ঞে মুখর তামিলনাড়ু। রাজ্যের ২৩৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে এক দফায় ভোটগ্রহণে অংশ নিচ্ছেন ৫ কোটি ৬৭ লক্ষেরও বেশি ভোটার। এই নির্বাচনে মূল লড়াই ত্রিমুখী— ক্ষমতাসীন ডিএমকে, এআইএডিএমকে এবং অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে-র মধ্যে। ভোটের ফলই ঠিক করবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দ্রাবিড়ভূমির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বে ডিএমকে এবারের নির্বাচনে কিছুটা এগিয়ে। একাধিক জনমুখী প্রকল্প ও সরকারের কাজের ভিত্তিতে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী শাসকদল। সাধারণ ভোটারদের একাংশও মনে করছেন, এবার ডিএমকের পাল্লাই ভারী।

তবে এআইএডিএমকে এবং বিজয়ের দলও যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।
এই নির্বাচন স্ট্যালিনের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তিনি যদি আবারও সরকার গঠন করতে পারেন, তবে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি হবে। এর আগে রাজ্যে টানা দু’বার ডিএমকে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাই দ্বিতীয়বারের জয় স্ট্যালিনের জন্য হবে রেকর্ড গড়ার সমান। নির্বাচনী প্রচারে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তামিলনাড়ুকে দক্ষিণ এশিয়ার আদর্শ রাজ্যে পরিণত করবেন।
অন্যদিকে, জয়ললিতার মৃত্যুর পর টানা একাধিক নির্বাচনে ব্যর্থ এআইএডিএমকে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করছে।
দলের সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাড়ি পালানিস্বামী ভোটারদের আবেদন জানিয়েছেন, ‘ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না।’ তবে দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং শশিকলার নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ এআইএডিএমকে-র লড়াইকে কঠিন করে তুলেছে।
এবারের নির্বাচনে বড় চমক অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে। পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লি পূর্ব— এই দুই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। জনপ্রিয়তার বিচারে বিজয় ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। বিশেষত তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রভাব ডিএমকে ও এআইএডিএমকে— উভয় শিবিরের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারে প্রায় ৯৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, আবার নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন সাড়ে ১৪ লক্ষের বেশি ভোটার। বিরোধীরা এই বিষয় নিয়ে অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। এআইএডিএমকে-র রাজ্যসভার সাংসদ আই এস ইনবদুরাই প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
ভোটকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ৩৩ হাজার ১৩৩টি স্থানে ৭৫ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় মোতায়েন রয়েছেন ৩ লক্ষাধিক কর্মী এবং ৮ হাজার ৩০০-এর বেশি পুলিশকর্মী। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটের আগে নগদ অর্থ, সোনা ও মাদক মিলিয়ে ১ হাজার ২৬২ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আজকের ভোট শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়— এটি তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দিন। স্ট্যালিন কি ইতিহাস গড়বেন, নাকি বিরোধীরা ফিরবে ক্ষমতায়— তার উত্তর মিলবে ভোটের রায়ে।