০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে প্রস্তাব, ভোট চলতি সপ্তাহে

ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস–এ দ্বিদলীয় ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলুশন’-এর ওপর চলতি সপ্তাহেই ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে উত্থাপিত পৃথক দুটি প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো— কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করা।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ১৯৭৩ সালের War Powers Resolution, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পাস হয়েছিল। আইনটি অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত। নতুন প্রস্তাব আইনে পরিণত হলে ইরানে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ কংগ্রেসের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল হবে।
ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের ভোট ছাড়া যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে থাকায় দ্রুত ওয়াশিংটনে ফিরে এ বিষয়ে ভোট হওয়া প্রয়োজন। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলিও সতর্ক করে বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত না হওয়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের নেই।
রোববার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প জানান, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চলবে, যদিও সেই লক্ষ্য কী— তা স্পষ্ট করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সিআইএ পরিচালক, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কংগ্রেস সদস্যদের ব্রিফ করবেন।
তবে প্রস্তাব পাস হলেও প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে তা কার্যকর করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে— যা অর্জন করা কঠিন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না মনে করেন, প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাসের সম্ভাবনা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন ট্রাম্পের অবস্থান সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কেনটাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস মাসি বলেন, এই সংঘাত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটিকে অনেকটাই প্রতীকী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করে এর বিরোধিতা করেছেন।
অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অনুরূপ প্রচেষ্টা সহজে সফল হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহের ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি আইনে পরিণত হবে কি না— তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

ইরানে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে প্রস্তাব, ভোট চলতি সপ্তাহে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ইরানে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে প্রস্তাব, ভোট চলতি সপ্তাহে

আপডেট : ৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার

ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস–এ দ্বিদলীয় ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলুশন’-এর ওপর চলতি সপ্তাহেই ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে উত্থাপিত পৃথক দুটি প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো— কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করা।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ১৯৭৩ সালের War Powers Resolution, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পাস হয়েছিল। আইনটি অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত। নতুন প্রস্তাব আইনে পরিণত হলে ইরানে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ কংগ্রেসের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল হবে।
ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের ভোট ছাড়া যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে থাকায় দ্রুত ওয়াশিংটনে ফিরে এ বিষয়ে ভোট হওয়া প্রয়োজন। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলিও সতর্ক করে বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত না হওয়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের নেই।
রোববার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প জানান, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চলবে, যদিও সেই লক্ষ্য কী— তা স্পষ্ট করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সিআইএ পরিচালক, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কংগ্রেস সদস্যদের ব্রিফ করবেন।
তবে প্রস্তাব পাস হলেও প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে তা কার্যকর করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে— যা অর্জন করা কঠিন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না মনে করেন, প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাসের সম্ভাবনা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন ট্রাম্পের অবস্থান সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কেনটাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস মাসি বলেন, এই সংঘাত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটিকে অনেকটাই প্রতীকী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করে এর বিরোধিতা করেছেন।
অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অনুরূপ প্রচেষ্টা সহজে সফল হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহের ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি আইনে পরিণত হবে কি না— তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।