পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলন নিয়ে মুর্শিদাবাদে ছড়িয়েছিল হিংসা। সেই ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করল মানবাধিকার সংগঠন। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর) এবং বন্দি মুক্তি কমিটির যৌথ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পরে পুলিশের গুরুতর অবহেলা, সাম্প্রদায়িক পক্ষপাত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
মুর্শিদাবাদের হিংসা নিয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করতে এলাকায় গিয়েছিলেন মানবাধিকার কর্মীরা। ১৪ দিন ধরে এলাকা ঘুরে ঘুরে তদন্ত চালিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন দুটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ এই উত্তেজনা কমিয়ে আনতে পারত। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভুক্তভোগীরা সর্বসম্মতিক্রমে বলেছেন যে পুলিশের প্রাথমিক পদক্ষেপ সহিংসতা রোধ করতে পারত। কিন্তু পুলিশে পদক্ষেপ ছিল প্রশ্নাতীত। এক প্রেস বিবৃতিতপ বলা হয়েছে, ওয়াকফ আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনা থেকে উদ্ভূত এই সহিংসতার ফলে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং আহত হওয়ার পাশাপাশি তিনজন নিহত হন। ইজাজ আহমেদ নামের এক যুবক নিহত হওয়ার পাশাপাশি কমপক্ষে ১৩ জন মুসলিম বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ হন। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাহীন থাকার পর জাফরাবাদে মৃত্যু হয় হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস নামে দুই দম্পতির।
মুর্শিদাবাদের হিংসা থামাতে এলাকায় বিএসএফ নামানো হয়। হিংসা থামানোর নামে বেছে বেছে মুসলিম বাড়ি ও ব্যক্তিদের মারধর ও নির্যাতন চালানো হয় বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছিল। মানবাধিকার সংগঠনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জুলুম ও অত্যাচারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। বিএসএফ-এর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, বিএসএফ বাহিনী চপ্পল পরেছিল। এটি একটি অস্বাভাবিক দৃশ্য। ডানপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বিএসএফ কর্মীদের ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকতে পারে।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম অভিযোগ করেছে, পুলিশ যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই অপ্রাপ্তবয়স্ক-সহ মুসলিম নাগরিকদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে গ্রেফতার করছে। তারা অভিযোগ করেছে যে গ্রেফতার মেমো ছাড়াই রাতের বেলা অভিযান চালানো হচ্ছে এবং আটককৃতদের প্রায়শই ২৪ ঘন্টার বেশি বেআইনি ভাবে আটকে রাখা হয়। হেফাজতে সহিংসতার শিকার হয়েছেন অনেকেই। প্রায় ৩০০টি ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, গ্রুপগুলো ‘কপি-পেস্ট’ চার্জ বলে অভিহিত করেছে। যেখানে শুধু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। যা বানোয়াট ও ইসলামবিদ্বেষী অভিযোগের ইঙ্গিত বলেই দাবি করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, বিএসএফের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, মিথ্যা অভিযোগে আটককৃতদের মুক্তি এবং নির্বিচারে পুলিশি অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে গণতান্ত্রিক সমাবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিচারাধীন বন্দিদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।

























