পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ফের যুদ্ধ শুরু করলে ভবিষ্যতে ইসরাইলকে একাই তার পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে。
আরও পড়ুন:
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি সম্পর্কে সাবধান থাকা জরুরি, কারণ সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক সমর্থন কমে যেতে পারে এবং তখন ইসরাইলকে এককভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হতে পারে। এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর সাম্প্রতিক উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করেছিল। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ইরান ও ইসরাইল উভয় পক্ষই আপাতত হামলা স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
একই সঙ্গে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে。আরও পড়ুন:
এদিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প উভয় পক্ষের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলমান রয়েছে এবং তা সফল হতে হলে উভয় পক্ষকেই উত্তেজনা এড়িয়ে চলতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ট্রাম্প সরাসরি ফোনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন এবং নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দেন。
আরও পড়ুন:
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে রবিবার বৈরুতে ইসরাইলের প্রাণঘাতী বিমান হামলার পর। দীর্ঘদিন ধরেই ইরান বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো শান্তি সমঝোতার অগ্রগতি আংশিকভাবে লেবানন পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। বৈরুতের ওই হামলার জবাবে ইরান উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
এর পরপরই ট্রাম্প আবারও নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তবে সেই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার ভোরে ইসরাইল ইরানের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইসরাইলি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স。আরও পড়ুন:
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা চালায়। দেশটি ইসরাইলের হাইফা অঞ্চলের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং দুটি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এ সময় ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের আকাশসীমায় নষ্ট করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।