কুতুব উদ্দিন মোল্লা, ক্যানিং : স্বামী আক্রান্ত হয়েছেন প্যারালাইসড রোগে। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর শয্যাশায়ী। অগত্যা স্বামীর চিকিৎসা খরচ বহন করে সংসারের হাল ধরতে ময়দানে নামলেন বধু। সুন্দরবনের প্রান্তিক ষ্টেশন ক্যানিং। ষ্টেশনেই কুলির কাজ করেন গৃহবধু হাজরা সরদার।
আরও পড়ুন:
নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারের হাল ছিল স্বামী রসিদ সরদারের কাঁধে।ক্যানিং ষ্টেশনেই কুলির কাজ করে যা আয় হতো কোন রকমে দিন যাপন করতেন।
পরিবারে রয়েছে এক সন্তান ও স্ত্রী। ক্যানিং ষ্টেশনেরই পাশে গোয়ালা পাড়ার একটি ছোট্ট বাড়িতে বসবাস করেন সরদার দম্পতি।আরও পড়ুন:
সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল।গত প্রায় ৪ বছর আগে দরিদ্র সরদার পরিবারের মাথায় নেমে আসে দূরহের এক অশুভ ছায়া।পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী রসিদ সরদার প্যারালাইসড রোগে আক্রান্ত হয়।গৃহবধু হাজরা সরদারের উপর সংসারের জোয়াল চাপে।
আরও পড়ুন:
কি করবেন ভেবে উঠতে পারছিলেন না বধু।
অগত্যা স্বামীর দেখানে পথেই পা বাড়িয়ে ‘ষ্টেশনে কুুলি’র কাজ শুরু করেন হাজরা।প্রথম দিকে অনেকেরই হাসি,ঠাট্টা মসকরা সহ্য করতে হয়েছে।এমন কি লজ্জা ও লাগতো কুলির কাজ করতে গিয়ে।অনেক সময় মহিলা কুলি কে পাত্তাই দিতেন না অনেকেই।আরও পড়ুন:
অপমানে এক সময় কুলির কাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন বধু। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে কি করে?স্বামীর চিকিৎসা খরচ বা বহন হবে কি ভাবে?
এমন সব সাতপাঁচ ভেবেই আবারও ক্যানিং ষ্টেশনেই কুলির কাজ শুরু করেন ওই বধু।প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কুলির কাজ করেন।আরও পড়ুন:
কোন দিন ২০০ আবার কোন দিনও বা ৩০০ টাকা আয় হয়। সামান্য আয়ের অধিকাংশ টাকা স্বামীর চিকিৎসা খরচে ব্যয় করতে হয়।অবশিষ্ট যেটুকু থাকে সেই টাকা দিয়েই কোন রকমে দিন গুজরান করেন। গৃহবধু হাজরা সরদারের আবেদন ‘যদি কোন সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন তাহলে হয়তো এমন দুর্ভোগ পোহাতে হতো না’।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে ক্যানিং ষ্টেশনের হকারদের একাংশ জানিয়েছেন স্বামী ও সংসার বাঁচাতে গৃহবধু যে ভাবে কুলির কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন তাতে করে গৃহবধু কে কুর্ণিশ জানাতেই হয়।