পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় ডিজিটাল প্রমাণ বা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নিয়ে এক নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, স্বামী বা স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা মানসিক নিষ্ঠুরতার অভিযোগ প্রমাণের জন্য কেবল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট যথেষ্ট নয়, যদি না অপর পক্ষকে সেই প্রমাণের বিরোধিতা করার বা নিজের যুক্তি পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়। বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপাণ্ডের ডিভিশন বেঞ্চ নাসিক জেলা ফ্যামিলি কোর্টের দেওয়া একটি বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে নাসিকের একটি ফ্যামিলি কোর্ট এক ব্যক্তির বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেছিল। ওই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানসিক নিষ্ঠুরতার অভিযোগ তুলেছিলেন। প্রমাণের সপক্ষে তিনি কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পেশ করেন। যেখানে দেখা যায়, তাঁর স্ত্রী নাসিক ছেড়ে পুণেতে আলাদা থাকার দাবি জানাচ্ছেন। স্ত্রী তাঁর শাশুড়ি ও ননদ সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন।
ফ্যামিলি কোর্ট মনে করেছিল, হোয়াটসঅ্যাপের ওই ভাষা এবং ব্যবহারের মাধ্যমে স্বামী মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাই ‘নিষ্ঠুরতা’র কারণে ওই ব্যক্তিকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আদালত। নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। তাঁর দাবি ছিল, আদালত তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই একতরফা নির্দেশ দিয়েছে।
মামলাটি খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট জানায়, ফ্যামিলি কোর্ট ওই মহিলাকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটগুলোর সত্যতা যাচাই বা সেই প্রমাণের বিরোধিতা করার সুযোগ দেয়নি, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, “কেবল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ওপর ভিত্তি করে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি মঞ্জুর করা যায় না, যদি না তা যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে প্রমাণিত হয়।”



























