পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার চলমান সামরিক সংঘাত এবার ভারত মহাসাগরেও ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমেরিকা বা ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে যুদ্ধের পরিধি ভারত মহাসাগর এবং তার বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি বৃহস্পতিবার এক ভিডিয়ো বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংঘাত যেহেতু পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী থেকে লোহিত সাগরে ছড়িয়েছে, তাই হামলার জবাবে এই যুদ্ধক্ষেত্র ভারত মহাসাগরে প্রসারিত হওয়া অসম্ভব নয়। এই প্রথম ইরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্টভাবে ভারত মহাসাগরের নাম উল্লেখ করা হল, যেখানে ইরান থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে দিয়েগো গার্সিয়ায় আমেরিকা ও ব্রিটেনের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

এখানে এর আগে ইরান হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।
গত ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল পরিবহন রুটে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই চলছে। পাশাপাশি, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূল দখল করে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে।
যার জেরে সুয়েজ খাল ভিত্তিক এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্য পথ কার্যত ইরান-আনসারুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। যদিও তেহরান ইয়েমেন যুদ্ধে নিজেদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
সংঘাত থামাতে চলতি সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকে উভয় দেশের আধিকারিকদের মধ্যে আলোচনা হলেও উত্তেজনা কমেনি। ইরান যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে তাদের অর্থনীতির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা তহবিল নিঃশর্তে ছাড়ার দাবি জানিয়েছে।
এর পাশাপাশি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মহেবি ইয়েমেন যুদ্ধ অবসানের বিষয়টিও সমাধানের পূর্ব শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এই সংঘাত ভারত মহাসাগরের দিকে এগোলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যের উপর জ্বালানি নির্ভরতার কারণে হরমুজ প্রণালী বা সংলগ্ন জলপথে যে কোনও অস্থিরতা ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানিকে বিপন্ন করবে। যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম, পণ্য পরিবহনের খরচ অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ঝুঁকির কারণে জাহাজগুলি উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে চলায় খরচ ও সময় উভয়ই বাড়ছে। সাফাভি বাণিজ্যিক জাহাজ নাকি সামরিক ঘাঁটিকে নিশানা করা হবে তা স্পষ্ট না করলেও, সংঘাত আরও পূর্বে বিস্তৃত হলে তা ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতমুখী জাহাজের সুরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারতীয় নৌবাহিনীর উপর সামরিক নজরদারির দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে যাবে।