পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
নদিয়া জেলার রানাঘাট এবং তার পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনায় নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ কয়েক দশক পর ফের এই জল্পনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে যে, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সঠিক উপায়ে খননকাজ চালালে রানাঘাটের মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারে অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। আর এই সম্ভাবনাকে ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল উন্মাদনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি জমিদাতারাও চাইছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সংস্থা অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ওএনজিসি) অবিলম্বে ওই এলাকায় এসে রি-ড্রিলিং বা পুনরায় আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে খননকাজ শুরু করুক।
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, এই এলাকায় খনিজ সম্পদের সম্ভাবনার কথা আজ নতুন নয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও জমির মালিক সাধন বিশ্বাসের দাবি অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭০ সাল নাগাদ প্রথমবার রানাঘাটের এই নির্দিষ্ট এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস ও তৈলজাত পদার্থের প্রাথমিক সন্ধান মিলেছিল। সেই সময়ে ওএনজিসি-র তরফ থেকে কিছু কাজও শুরু হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রবীণদের একাংশ জানাচ্ছেন। কিন্তু সেই সময় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেকেলে প্রযুক্তি। সে যুগে উন্নত ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব থাকায় এবং মাটির অনেক গভীরে গিয়ে বিপুল পরিমাণ খনিজ তোলার মতো পরিকাঠামো না থাকায় মাঝপথেই থমকে যায় সেই স্বপ্নের প্রকল্প। তবে বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। সাধনবাবুর মতে, এখন অত্যাধুনিক সিসমিক সার্ভে এবং ড্রিলিং প্রযুক্তির সাহায্যে এই এলাকায় ফের খনন শুরু করলে মাটির তলায় সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ অনায়াসেই উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
এই প্রসঙ্গে নিজের আবেগ ও উচ্ছ্বাস গোপন করেননি সাধন বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, ওই চিহ্নিত এলাকায় তাঁর নিজের প্রায় ১২ বিঘা জমি রয়েছে। দেশের এবং রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি সেই জমি হাসি মুখে ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত। তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলেন, “মাটির তলা থেকে যদি সত্যিই গ্যাস বা খনিজ তেল পাওয়া যায়, তবে একজন স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত ও গর্বিত হব। এর ফলে শুধু যে নদিয়া জেলার ভোল বদলে যাবে তা নয়, পার্শ্ববর্তী উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলারও অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে।” তাঁর কথায়, এই অঞ্চলে শিল্প বলতে তেমন কিছু নেই, তাই এই খনি চালু হলে স্থানীয় বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কাজের এক বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। নতুন সরকারের কাছে তাঁর বিনীত আবেদন, আর কালক্ষেপ না করে অবিলম্বে ওএনজিসি-কে দিয়ে পুনরায় ড্রিলিংয়ের কাজ শুরু করানো হোক।