পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আগামী বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে ‘দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ় অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। এই বিলের মাধ্যমে রাজ্যের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বদলি করার নীতি কার্যকর করতে চাইছে রাজ্য সরকার। বুধবার বিকেলে যাদবপুরের এইট-বি বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক সভা থেকে এই প্রস্তাবিত বিলকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
বুধবার দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক থেকে শুরু হওয়া ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ যাদবপুরে এসে শেষ হয়।
সেখানকার সভামঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উৎকর্ষ কেন্দ্রে যাঁরা দেশবিরোধী স্লোগান দেন, তাঁদের শিকড় থেকে উপড়ে ফেলা হবে। তিনি আরও জানান, এই ধরনের মানসিকতা দূর করতে ক্যাম্পাসে গীতা, হনুমান চালিসা পাঠ করা হবে এবং তিন দিন ধরে বেদপাঠেরও আয়োজন করা হবে। বিরোধিতাকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।এই বিল এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে শিক্ষা মহলে।
আরও পড়ুন:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, নতুন বদলি নীতির মাধ্যমে বেছে বেছে শিক্ষকদের অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। শিক্ষক দিবসের ঠিক পরেই মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যকে ‘বেদনাদায়ক’ বলে কটাক্ষ করেছেন এক শিক্ষক। ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও-র তরফ থেকেও এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। তাদের মতে, পরিকাঠামো উন্নয়নের বদলে এই বিলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বাধিকার ধ্বংস করে দলীয় নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, শিক্ষক সংগঠন আবুটা-ও ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের রাজনৈতিক তৎপরতা এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসনের পক্ষে সওয়াল করেছে।