উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় :তীব্র সমুদ্রভাঙনের জেরে ধ্বংসের মুখে গঙ্গা সাগরের ঐতিহ্যবাহী শাল কাঠের কটেজ। একসময় পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই সুদৃশ্য বাংলো। বর্তমানে কটেজটির নীচের ভিটেমাটি ক্রমশ ধসে পড়ায় সেটি কার্যত বিলুপ্তির পথে। কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তির এমন পরিণতিতে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গাসাগর মেলা পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কাজের সুবিধার পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছিল এই শালকাঠের কটেজটি।

নির্মাণের পর থেকেই এটি গঙ্গাসাগরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠে ছিল।কিন্তু লাগাতার সমুদ্র ভাঙনে বর্তমানে কটেজটির অস্তিত্বই সংকটের মুখে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গাসাগর উপকূলে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একের পর এক জোয়ার ও সামুদ্রিক ঢেউয়ের ধাক্কায় মাটি সরে গিয়ে কটেজটির নীচের অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অদূর ভবিষ্যতে পুরো কাঠামোটিই সমুদ্রগর্ভে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে গঙ্গা সাগরের সৈকত,সরকারি সম্পত্তি এবং এলাকার ঐতিহ্য রক্ষায় অবিলম্বে স্থায়ী সমুদ্র বাঁধ নির্মাণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য,শুধু সাময়িক ভাবে বালির বস্তা বা অন্যান্য উপায়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা না করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।কটেজটির বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। স্থানীয় বিজেপি নেতা রাজেশ জানা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বলেন, “তৃণমূল সরকারের উদাসীনতা ও কাটমানির রাজনীতির কারণেই আজ এই কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হলো। বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় ভাঙন রোধে কোনও স্থায়ী পদক্ষেপ না করে শুধু লোকদেখানো কাজ হয়েছে।
”যদিও বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ভাঙনের কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করেছেন সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গাসাগর এলাকায় সমুদ্রভাঙন চলছে। তার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেও স্থানীয়দের মূল দাবি একটাই—দ্রুত ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী কটেজ নয়, গঙ্গাসাগরের সৈকত, পর্যটন পরিকাঠামো এবং অন্যান্য সরকারি সম্পত্তিকেও রক্ষা করতে হবে। কারণ, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবসতি সমুদ্রভাঙনের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।