পুবের কলম, নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লির সাকেত থানায় দুই মুসলিম মহিলা সাংবাদিককে নির্মমভাবে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও দিল্লি পুলিশ কোনো এফআইআর দায়ের করেনি বলে অভিযোগ তুলেছেন আক্রান্ত সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান। উল্টে অভিযোগ থেকে প্রভাবশালী নাম বাদ দিতে এবং বিষয়টি আপস করার জন্য তাঁদের পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দুই মহিলা সাংবাদিক।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, দুই মহিলা সাংবাদিক গুরুতর আহত অবস্থায় থানায় অচেতন হয়ে পড়ে রয়েছেন। অভিযোগ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে একটি অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করতে যাওয়ার পর পুলিশ তাঁদের টেনে-হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায় এবং ব্যাপক মারধর ও নিগৃহ করে।
ধর্মীয় পরিচয় জানার পর নিগ্রহের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।আরও পড়ুন:
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহীন খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মহিলাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দিল্লি পুলিশ ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পরও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। এখনও দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। উল্টে মামলাটি মিটিয়ে ফেলা এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী নাম বাদ দেওয়ার জন্য আমাদের ও পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
"আরও পড়ুন:
যদিও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই দুই নারী ভিউআইপি রুটে নিজেদের স্কুটার দাঁড় করিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। বারবার সরানো সত্ত্বেও তারা নির্দেশ অমান্য করায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। গুরুতর আহত নাফিসা খান পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, "আমাদের কী অপরাধ ছিল তা প্রমাণ করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করছে না কেন? আমরা কোনো অন্যায় করে থাকলে তা প্রকাশ্যে আনা হোক। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা চাই।"