পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হাতে একের পর এক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হওয়া রাজনীতিকদের অবিলম্বে হেফাজতে নিতে হবে, কোনোভাবেই তাঁদের বাইরে অবাধে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া যাবে না। মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে একনাথ শিণ্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বের তাণ্ডব এবং হাসপাতাল কর্মী ও চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শীর্ষ আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণ সামনে এল।
 
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পালঘরের ‘রিলিফ হাসপাতাল’-এ রবিবারের প্রথম প্রহরে (রবিবার ভোরে) এই বর্বরোচিত ঘটনার সূত্রপাত। দহি হান্ডি উৎসবে আহত এক রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে জরুরি বিভাগে বচসা শুরু হয়।

হালকা তর্কাতর্কি থেকে মুহূর্তের মধ্যে তা তাণ্ডবে রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শিবসেনার পালঘর জেলা প্রধান কুন্দন সংখে এবং শহর প্রধান রাহুল ঘারাত একদল অনুগামীকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জোরপূর্বক ঢুকে পড়েন। ডিউটিতে থাকা চিকিৎসকদের সঙ্গে তুমুল গালাগালির পর তাঁদের শারীরিক নিগ্রহ করা হয়।
 
ঘটনার পর হাসপাতালের এক কর্মচারীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পালঘর পুলিশ অন্তত ১৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। ধৃতদের তালিকায় শাসক দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর নাম রয়েছে। সারাদেশে যখন কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে সরব হচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, তখন এক রাজকীয় ক্ষমতাদর্পী রাজনীতিকদের হাসপাতালে ঢুকে এহেন গুণ্ডামি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে।