পুবের কলম, নয়াদিল্লি: পেট্রোল পাম্প থেকে কেনা জ্বালানিতে ঠিক কত শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে! তা পাম্পের ডিসপেন্সিং নজেলে স্পষ্টভাবে লেখা এবং তেলের রসিদে তা উল্লেখ করার দাবি জানিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা গ্রহণে অস্বীকার করল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনকারী আইনজীবী এন কে গোস্বামীকে উপযুক্ত প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে।

এদিন শুনানির সময় আবেদনকারী আইনজীবী এন কে গোস্বামী আদালতে যুক্তি দেন, সাধারণ নাগরিকরা যে জ্বালানি কিনছেন তাতে কী উপাদান এবং কত শতাংশ ইথানল রয়েছে, তা জানার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে।

তিনি বলেন, "পাম্পের এই রসিদটি দেখুন, এতে ইথানল সংক্রান্ত কোনো উল্লেখ নেই। আমি যে পণ্যটি অর্থ দিয়ে কিনছি, তাতে কী মেশানো রয়েছে তা জানা আমার মৌলিক অধিকার।" আবেদনকারী উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী এক শুনানিতে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচিকে ‘পরীক্ষামূলক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করা হয়।

আবেদনকারীকে কটাক্ষ করে অ্যাটর্নি জেনারেল (এজি) বলেন, "উনি চান যে ভারত সরকার যেন ওনার কাছে জবাবদিহি করে!" এর জবাবে আইনজীবী গোস্বামী বলেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সুবিধা বা স্বার্থের জন্য নয়; এটি দেশের সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সাথে জড়িত। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মামলাটিকে একটি ‘প্রক্সি পিটিশন’ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং মনে করিয়ে দেন, গত বছরও সুপ্রিম কোর্ট এ সংক্রান্ত প্রায় একই ধরনের একটি পিটিশন খারিজ করে দিয়েছিল।

আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন, প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের নজেলে সুনির্দিষ্ট ও সমান মাপে কত শতাংশ ইথানল মেশানো হয়েছে তার লেবেল থাকা এবং ক্রেতাকে দেওয়া রসিদে তা স্পষ্ট করে লেখা। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রকের অধীনে একটি উন্মুক্ত ডেটাবেস তৈরি করা, যেখানে গাড়ির মডেল, ইঞ্জিন এবং তৈরির বছর অনুযায়ী কোন গাড়ির জন্য কত শতাংশ ইথানলযুক্ত তেল উপযোগী, তা নাগরিকরা সার্চ করে দেখতে পারবেন। পুরোনো বা যেসব গাড়ি ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের উপযুক্ত নয়, সেগুলোর জন্য কম ইথানলযুক্ত তেল সরবরাহ করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।