পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও তহবিল নিয়ে কালীঘাট বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের আইনি বিবাদের নিষ্পত্তি এখনও অধরা। অগস্ট মাসের মধ্যে দিল্লির নির্বাচন কমিশনের এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও তা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ফয়সালার দাবিতে অগস্টের শেষ দিনে কমিশনকে চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছে, তাই অবিলম্বে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।


সূত্রের খবর, মমতার এই চিঠির সঙ্গে দলের কয়েকজন বিধায়কের চিঠিও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ওই বিধায়কেরা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে। তবে এই বিধায়কেরা কারা, তা জানা যায়নি। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ঋতব্রত শিবির থেকে কেউ পুরনো দলে ফিরতে চাইছেন কি না এবং দলের রাশ শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন তীব্র হয়। দলের অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নিজেকে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করা শিবিরে যোগ দেন। পাশাপাশি, লোকসভার অধিকাংশ সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে এবং তিন জন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেন।
এই টানাপোড়েনের মধ্যে দলের অধিকার নিয়ে গত দু’মাস ধরে লড়াই চলছে। জুলাইয়ের শেষে কালীঘাট শিবিরের তরফে সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ তথ্যপ্রমাণ জমা দেন। কিন্তু ঋতব্রত শিবির কমিশনের কাছে বাড়তি সময় চাওয়ায় আপত্তি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, দু’পক্ষের সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল ১৫ অগস্টের মধ্যেই দলের প্রতীক ও তহবিলের বিষয়ে ফয়সালা হয়ে যাবে। কিন্তু অগস্ট মাস পেরিয়ে গেলেও কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।