পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তফশিলি জাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা ‘উপ-সংরক্ষণ’ চালুর দাবিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে বিবাদে জড়ালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার দুই শরিক নেতা—লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-র প্রধান চিরাগ পাসওয়ান এবং হিন্দুস্তানি অওয়াম মোর্চা প্রধান জিতন রাম মানঝি। একপক্ষ এই উপ-সংরক্ষণকে দলিত সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা বলে আখ্যা দিলে অন্যপক্ষ এটিকে দলিতদের প্রকৃত অধিকার বলে দাবি করেছে। বিহারের রাজনীতিতে দুই প্রভাবশালী দলিত নেতার এই বাকযুদ্ধ এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
হাজিপুরের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান নীতিগতভাবে এই উপ-সংরক্ষণের বিরোধিতা করে বলেন, দলিতদের ভেতরেই আবার উপ-শ্রেণী তৈরি করলে সমাজের ভেতরে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হবে।
চিরাগের মন্তব্যের জবাবে চটে গিয়ে গয়ার ৮২ বছর বয়সী সাংসদ জিতন রাম মানঝি পাল্টা দাবি করেন, "আমাদের নয়, চিরাগ পাসওয়ানেরই পদত্যাগ করা উচিত। দলিতদের সার্বিক স্বার্থে আমরা যে কথাটি বলছি, তা বোঝার ক্ষমতা ওঁর নেই।" মুসহর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করা মানঝির অভিযোগ, পাসওয়ান পরিবার মূলত ‘দোসাদ’ জাতির প্রভাব বজায় রাখতেই প্রান্তিক দলিতদের জন্য বিশেষ কল্যাণের বিরোধিতা করছে। মানঝির পুত্র তথা বিহারের মন্ত্রী সন্তোষ কুমার সুমন সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, কোটার মধ্যে কোটা বা উপ-সংরক্ষণ আর ‘ক্রিমিলিয়ার’ এক জিনিস নয়। মুসহর, ভুঁইয়া, নাট, ডোমের মতো অতি-প্রান্তিক জাতিগুলো তফশিলিদের ভেতরেও বৈষম্যের শিকার হয়। দলিতদের ভেতরে কারও জমিদারি মনোভাব রাখা উচিত নয়।