পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পরীক্ষার মুখে পড়তে চলেছে নতুন সরকার। গত মঙ্গলবার ডেঙ্গি নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ অগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪,০৩৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। পজ়িটিভ রোগীর মৃত্যু ধরলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ।
গত বছরের তুলনায় এ বছর সংক্রমণের হার কিছুটা কম মনে হলেও, নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।আরও পড়ুন:
শুধুমাত্র শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গির বাহক এডিস মশা ব্যাপকভাবে ঘাঁটি গেড়েছে। জলপাইগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু এলাকায় সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা।
এরপরই যথাক্রমে রয়েছে ভাঙড়-২, হাওড়া, পূর্বস্থলী-১ এবং আসানসোল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর ডেঙ্গির 'ডেন-২' প্রজাতির দাপট বেশি, যা দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি। রাজ্যের বহু পুরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতে বর্তমানে কাউন্সিলর বা প্রধানরা নেই।
প্রশাসকদের একার পক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার লার্ভা নিধনের কাজ তদারকি করা কঠিন হচ্ছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ বর্তমানে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের তথ্য যাচাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় ডেঙ্গি নজরদারির কাজে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি ৬৫ ঊর্ধ্ব ৩৫ জন চিকিৎসকের নিয়োগ বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে খবর।আরও পড়ুন:
রাস্তাঘাটে জমে থাকা জল ও ভাঙাচোরা নিকাশি ব্যবস্থা মশার আঁতুড়ঘরে পরিণত হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। স্বাস্থ্য ভবনের আশঙ্কা, এল নিনোর প্রভাবে এবার শীত আসতে দেরি হলে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গির প্রকোপ থাকতে পারে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় আশ্বস্ত করেছেন যে, পুরবোর্ডগুলি না থাকলেও রাজ্যের বিজেপি বিধায়করাই জনপ্রতিনিধিদের অভাব পূরণ করে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের কাজ সামলাচ্ছেন। কোথাও কোনও অসুবিধা হবে না বলে তিনি দাবি করেছেন।