পুবের কলম প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও একাধিক পর্যায়ের সফল পরীক্ষার পর অবশেষে অশোকনগর ওএনজিসি প্রকল্প থেকে বাণিজ্যিকভাবে কাঁচা তেল পাঠানো শুরু হল। শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অশোকনগরের বিধায়ক ডাঃ সুময় হীরা, ওএনজিসি-র ডিরেক্টর অব এক্সপ্লোরেশন ওমপ্রকাশ সিনহা, এমবিএ বেসিন ম্যানেজার মানস কুমার নাথ-সহ সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তেল ভর্তি ট্যাঙ্কার হলদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
২০১৮ সালে অশোকনগরের মাটির নীচে তেলের সন্ধান পায় ওএনজিসি। এরপর গড়ে ওঠে ‘অশোকনগর-১’ প্রকল্প।

২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর তৎকালীন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অশোকনগর থেকে প্রথম ত্রু«ড অয়েল পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে কাজ থমকে যায়। জমি-জট-সহ নানা কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল।
গত বছর বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের পর নতুন করে প্রকল্পে আশার আলো দেখা দেয়। শুরু হয় টেন্ডার প্রক্রিয়া।
এরই মধ্যে মূল কূপের মুখ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে তেল উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওএনজিসির প্রযুক্তিবিদ ও ইঞ্জিনিয়াররা প্রায় ২৩০০ মিটার গভীরে মূল কূপ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ৯০ ডিগ্রি কোণে খনন চালিয়ে প্রায় ৯৫ মিটার দূরে নতুন তেলের স্তরের সন্ধান পান। সেখান থেকেই সফলভাবে তেল উত্তোলন শুরু হয়েছে।
ওএনজিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন কূপে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ কিউবিক মিটার তেল মজুত রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১২০০ লিটার তেল হলদিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
তেলের এপিআই গ্রাভিটি প্রায় ৪০-৪১, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় উন্নত বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
প্রাথমিকভাবে ছ’টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চারটিতে তেল এবং দুটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। প্রকল্পের জন্য ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণমূলক পরিকাঠামো উন্নয়নেও আরও ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অশোকনগর থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার লিটার কাঁচা তেল শোধনাগারে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। দীর্ঘ আট বছর পর বাণিজ্যিকভাবে তেল পাঠানো শুরু হওয়ায় অশোকনগরজুড়ে খুশির আবহ।